ধোনি শুধু একটা নাম নয়

অধিনায়ক হিসেবে তার জেতার বাকি নেই কিছু। ২০০৭-এ দায়িত্ব নিয়ে ভারতকে জিতিয়েছিলেন প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এরপর তার নেতৃত্বে ভারত ২০১১-তে দ্বিতীয়বারের মতো পায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব। ২০১৩-তে অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। এর বাইরে ভারত তার নেতৃত্বে এশিয়া কাপ জিতেছে দুইবার। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ আইপিএলের শিরোপা হাতে নিয়েছেন তিনবার চেন্নাইকে নেতৃত্ব দিয়ে। তার অধিনায়কত্বেই ভারত সর্বোচ্চ ২৩টি টেস্ট জিতেছে। ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়কের তকমাটা পেয়েছেন আগেই। মাথা ঠা-া রেখে যেকোনো পরিস্থিতি সামলে দেওয়ায় সেই সঙ্গে পেয়েছেন ‘মিস্টার কুল’ খেতাব। আজ তার ৩৮তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

চলতি বিশ্বকাপে ভারত শিবিরে বইছে ফুরফুরে হাওয়া। গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে দলটি এখন সেমিফাইনালে সাফল্য পাওয়ার ছক কষতে ব্যস্ত। এর মধ্যেই দলের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিটির জন্মদিন। স্বভাবতই অনুজদের কাছ থেকে পাচ্ছেন প্রাণঢালা অভিনন্দন। তবে তাকে সম্মান জানাতে আইসিসি টুইটারে প্রকাশ করেছে ৩.১২ মিনিটের একটি ক্লিপ। যেখানে ধোনিকে প্রকাশ করা হয়েছে বদলে যাওয়া ভারতের কারিগর হিসেবে। আইসিসি লিখেছে, ‘এই নামটা পাল্টে দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট। এই নামটি সহস্র মানুষকে করেছে অনুপ্রাণিত। এই নামটি তৈরি করেছে এক প্রশ্নাতীত ধারা। এম এস ধোনি; এটা কেবলই একটি নাম নয়।’

এই ক্লিপে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ তাদের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ধোনির অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। ইংলিশ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জস বাটলার, অলরাউন্ডার বেন স্টোকসও নানাভাবে ধোনিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বিশ্বকাপে ধোনির ধীরগতির ব্যাটিং নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকে ধোনির সময় শেষÑ এমন কথাও বলেছেন। কিন্তু সব সমালোচকের জবাব দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক কোহলি ধোনিকে কিংবদন্তি আখ্যায়িত করে। আইসিসির ক্লিপে ধোনির সম্পর্কে কোহলি বলেন, ‘তিনি (ধোনি) সব সময় শান্ত এবং দৃঢ়চেতা। তার কাছ থেকে শেখার শেষ নেই। তিনি আমার সব সময়ের ক্যাপ্টেন। আমাদের বোঝাপড়াটা দুর্দান্ত। তার পরামর্শের জন্য সব সময় উন্মুখ থাকি। তিনি আছেন, আশা করব আরও অনেক দিন এভাবেই থাকবেন।’

আগ্রাসী ব্যাটসম্যান বাটলার ধোনিকে তার আদর্শ মানেন, ‘যখন বড় হয়ে উঠছি তখন থেকেই তিনি (ধোনি) আমার আদর্শ। মাঠে তার ব্যক্তিত্ব সব সময় আমাকে আকর্ষণ করে। উইকেটের পেছনে কিংবা ব্যাট হাতেÑ সব সময় তিনি শান্ত থাকেন। এই খেলাটির অনেক বড় দূত তিনি এবং আমি তার অনেক বড় ভক্ত।’

কেবল নেতৃত্বগুণে নয়, ভারতকে অসংখ্য ম্যাচ জিতিয়েছেন ডেথ ওভারে দারুণ ফিনিশ করে। এই বিশ্বে ধোনিকে সহজাতরূপে দেখা যাচ্ছে না বলেই হচ্ছে অনেক সমালোচনা। খানিকটা ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে শেষদিকে রানের চাকাটা সেভাবে ঘোরাতে ব্যর্থ ধোনির শেষও দেখে ফেলছেন অনেকে। খোদ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ভেতরেও শুরু হয়ে গেছে গুঞ্জনÑ বিশ্বকাপ শেষেই বিদায় বলবেন ধোনি। এ নিয়ে অবশ্য পরিষ্কার কিছু বলেননি তিনি। গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘আমি জানি না কখন অবসর নেব। তবে অনেকেই চেয়েছিলেন যাতে আমি কালকের (শনিবার) ম্যাচের আগেই বিদায় নেই।’