গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতালে শাটল ট্রেন চালু থাকলেও 'নিরাপত্তাজনিত কারণে' বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক বহনকারী বাস।
ফলে শহরে বসবাসকারী শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে না আসায় রবিবার কার্যত অচল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
হরতালে শিক্ষক বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও ক্লাস এবং পরীক্ষার বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতায় বৃষ্টিতে ভিজে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষকস্বল্পতায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।
এ ছাড়া হারতালে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা না করায় যারা অন্যান্য পরিবহনে ক্যাম্পাসে আসেন, তাদেরও ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
তবে এত ভোগান্তির পরেও ক্লাস করতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।
বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, হরতাল থাকলেও আমাদের ক্লাস বন্ধের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ক্যাম্পাসে এসেছি। তবে শিক্ষক বাস বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষকই আসতে পারেননি। তাই ক্লাস করতে পারিনি। শিক্ষক বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রশাসন আগে নিতে পারলে, আমাদের ক্লাস বন্ধ থাকবে কি না, এ বিষয়ে কেন তারা সিদ্ধান্ত নেয়নি?
এদিকে পরিবহন স্বল্পতা, অতিরিক্ত ভাড়া, বৃষ্টির ঝামেলা মিটিয়ে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তবে শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি থাকায় তারা সঠিক সময়ের পরীক্ষা নিয়েছেন।
বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, আজকে (রবিবার) হরতাল আমাদের পরীক্ষা হবে কি না? এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলাম। তবে বিভাগ থেকে কোনো কিছু না বলায় অনেক কষ্ট করে পরীক্ষা দিতে এসেছি। হরতাল থাকায় অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. এন. এম. সাজ্জাদুল হক বলেন, আমাদের বিভাগের ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা ছিল। হরতাল থাকলেও পরীক্ষার সময় সব পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। তাই শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই আমরা সঠিক সময়েই পরীক্ষা নিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে. এম. নূর আহমদ বলেন, কোন কারণে পরীক্ষা হবে কী হবে না সেটা বিভাগের বিষয়। হরতালের কারণে শিক্ষক বাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। আর শিক্ষক বাস বন্ধ থাকলে বা হরতালে ক্লাস হবে না এটা শিক্ষার্থীরা এমনিতেই জানে। এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার কিছু নেই।