বলিউডের জন্য ডাক্তারি পড়া বাদ দেন এই ভিলেন

ড্যানি নামেই বেশি পরিচিত বলিউডের এই ভিলেন। তার আসল নাম থেরিং পিন্টসো ডেনজোংপা। সিনেমায় আসার জন্য তিনি ত্যাগ করেন মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ। এ কারণে অনেক দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে, ছিলো না ঘুমানোর জায়গা।

১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্যাংটকে এক বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম ড্যানির। প্রথমে নৈনিতালের বিড়লা বিদ্যামন্দির ও পরে দার্জিলিঙের সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে পাস করেন। মূর্তি তৈরি, ছবি আঁকাতেও বিশেষ পারদর্শী ছিলেন তিনি।

প্রথম দিকে জীবনের লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আর্মড ফোর্স মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পান। কিন্তু অভিনয়ের নেশায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা দিলেন পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায়। ওই সময় তার হাত ছিলো একদম শূন্য।

আশ্রয় না থাকায় কখনো জুহু বিচ, কখনো বা শিবাজি পার্কের বেঞ্চে শুয়ে রাত কাটাতেন ড্যানি। নিরাপত্তারক্ষীরা এই উটকো ঝামেলাকে প্রায়ই তাড়া করতো। সব সহ্য করে লড়াই জারি রাখেন। স্ট্যান্ট ও শরীর চর্চায় বিশেষ মনোযোগ দেন।

সিনেমায় নাম লেখানোর পর সহ অভিনেত্রী জয়া বচ্চনের পরামর্শে নিজের বড় নাম ছেঁটে ডাকনাম ‘ড্যানি’ হিসেবে পরিচিত হতে শুরু করেন।  প্রথম ছবি ‘জরুরত’-এর শুটিং ১৯৭১ সালে শুরু হলেও মুক্তি পায় পরের বছর। তাকে পরিচিতি দেয় গুলজারের ‘মেরে আপনে’ (১৯৭১)। এ ছবিতে ইতিবাচক চরিত্র করলেও ১৯৭৩ সালে বি আর চোপরার ‘ঢুন্ধ’ এর মাধ্যমে ভিলেন হয়ে ওঠেন। মাঝে বেশ কিছু ছবিতে চরিত্রাভিনেতার হিসেবে দেখা যায় তাকে।

‘বন্দিশ’, ‘ফির ওহি রাত’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘পুকার’, ‘অগ্নিপথ’-এর মতো প্রায় দেড় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন ড্যানি। ২০০৫ সালে পরিচালনা করেন ‘ফির ওহি রাত’। সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসাবে দু’বার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। ২০০৩ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে।

ব্যক্তিগত জীবনে ড্যানির দুই সন্তান- ছেলে রিনঝিং ও মেয়ে পেমা। রিনঝিং সম্প্রতি ‘স্কোয়াড’ নামে একটি ছবির শুটিং শেষ করেছেন।