অনুমান করা কঠিন তারপরও এগিয়ে ভারত

বিশ্বকাপের মতো আসরে ম্যাচ নিয়ে অনুমান করা কঠিন। ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড-পাকিস্তান বা দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া খেলার ফলাফল প্রায় ৯৯ ভাগ মানুষই ভুল বলেছে। এখন সেমিফাইনাল। সব দলই সেরা। এখন তো অনুমান করা আরও কঠিন।

তারপরও আমি মনে করি ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বিরাট কোহলির দল অবশ্যই এগিয়ে থাকবে। ওদের তিন বিভাগই যথেষ্ট শক্তিশালী। সে তুলনায় কিউইদের ফিল্ডিং-বেলিং হয়তো ভালো তবে ব্যাটিংটা অধিনায়কনির্ভর। কেন উইলিয়ামসন যে কয়টা ম্যাচে রান পেয়েছে সব ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে দলটি। এছাড়া রস টেইলর বা মার্টিন গাপটিল এখনো জ্বলে উঠতে পারেনি। নিচের দিকে জিমি নিশাম, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম কিছু রান পেলেও ধারাবাহিক নয়। তবে যেহেতু নকআউট পর্বের খেলা সেহেতু এখানে যদি তিনজন ব্যাটসম্যান জ্বলে উঠতে পারে, দুটি বড় জুটি গড়ে উঠে তাহলে নিউজিল্যান্ডের কথা বলা যায় না। তাই নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় জুটি গড়ে তোলা অবশ্যই দরকার। শুরুতে গাপটিল যদি দারুণ শুরু এনে দেয় তাহলে কিন্তু ৩০০-এর সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে ভারতকে বিপদে ফেলা সম্ভব হতে পারে।

অন্যদিকে ভারতের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলার জায়গা তেমন নেই। ওদের এক ওপেনার রোহিত শর্মা তো শুরু থেকেই ফর্মে। এখন তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে লোকেশ রাহুলও। শেষ ম্যাচে কী অসাধারণ খেলে সেঞ্চুরি তুলে নিল। বিরাট কোহলিকে সেভাবে দায়িত্বই নিতে হচ্ছে না। তবে ভারতের মিডল অর্ডার কিছুটা নড়বড়ে। কিন্তু টপ অর্ডারের কল্যাণে তাদের বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। ওরা প্রমাণই করেছে ওদের ব্যাটিং যথেষ্ট শক্ত।

দু’দলের জন্য তুরুপের তাস হতে পারে উইলিয়ামসন ও রোহিত। দু’দলের ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে বিশ্বকাপে দলকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। তবে দুজনে প্রচুর রান করলেও রোহিত এখানে এগিয়ে। উইলিয়ামসন শুরুতে কিছুটা সেøা খেলে। পরে সেটা কাভার করে। যেদিন কাভার করতে পারে না সেদিন তার দল মুখ থুবড়ে পড়ে। বিপরীতে রোহিত মাঠে থাকা মানেই প্রতিপক্ষের ঘুম হারাম।

বোলিং তুলনা করতে গেলে আমি ভারতকে এগিয়ে রাখব তাদের বোলিং বৈচিত্র্যের জন্য। দু’দলের বোলিং শক্তিশালী হলেও নিউজিল্যান্ড শুধু পেস দিয়ে আক্রমণ করবে। তাদের বোলাররা সিম কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু ভারতের কুলদিপ, চাহাল ভারতের বোলিং ভা-ার সমৃদ্ধ করেছে। এদিকে শেষ ম্যাচে রবীন্দ্র জাদেজাও ভালো করেছে। ওদের ম্যানেজমেন্ট কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যাবে দল ঠিক করতে। তবে জাসপ্রিত বুমরাহর সঙ্গী হতে পারে মোহাম্মদ শামি।

এবারের আসরে টস অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। আগে ব্যাট করে দলগুলো জিতেছে বেশি। কারণ ইংল্যান্ডে গরম পড়ার কারণে বলের ওপরের অংশ ড্রাই হয়ে যাচ্ছে। আর দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট সেøা হয়ে যাচ্ছে। তাই সেøা উইকেট হলে রান তাড়া করতে অসুবিধা হবে। তবে স্পোর্টিং উইকেট হলে কিন্তু ভারত এগিয়ে থাকবে। আর দু’দলই এখানে আগে খেলে জিতেছে বলে মাঠ সম্পর্কে তাদের ভালোই ধারণা আছে। লিগ পর্বে দু’দলের খেলা বৃষ্টির কারণে হয়নি। সেমিফাইনালে সরাসরি মুখোমুখি। দু’দলই জয়ের জন্য ভালো পরিকল্পনা করবে বলে আমার বিশ্বাস। মাঠের চরিত্র বুঝে যে দল ব্যাটিং, বোলিংয়ে খাপ খাওয়াতে পারবে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। কারণ দু’দলের ফিল্ডিং প্রায় সমপর্যায়ের।

দুই অধিনায়কের একজন (উইলিয়ামসন) শান্ত, সৌম্য। অন্যজন (কোহলি) আগুনের ফুলকি। মাঠে প্রতিমুহূর্তে উত্তেজনামুখর থাকে। তবে কোহলির সবচেয়ে বড় শক্তি মিস্টার কুল মহেন্দ্র সিং ধোনি। যে পেছন থেকে কোহলির চাপ কমিয়ে দিচ্ছে। অনেক সিদ্ধান্তের ভার নিজে নিচ্ছে। আর উইলিয়ামসননির্ভর নিউজিল্যান্ড। বাকিরা নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি। তাই এদিকে পিছিয়ে থাকা তাদের ভোগাতে পারে।