মিরসরাইয়ে ডিজিটাল ভূমি জরিপে অনিয়ম তদন্তে দুদক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নে ডিজিটাল ভূমি জরিপের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রবিবার দিনভর সংস্থাটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

গত ৩০ জুন এবং ৫ জুলাই দৈনিক দেশ রূপান্তরে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হলে সরেজমিনে তদন্তের জন্য দুদক মিরসরাই এসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এবং উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে যায়। দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশের নেতৃত্বে এ সময় উপসহকারী রিয়াজ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুদক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে অনেক ভুক্তভোগী দুদক কর্মকর্তাদের কাছে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। পরে দুদক কর্মকর্তারা মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন দুদক কর্মকর্তাদের জানান, তিনি কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসন নিয়ে ঘটনাস্থলে একটি গণশুনানির আয়োজন করেন। গণশুনানিতে ভুক্তভোগীদের দেওয়া অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ করে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই অভিযোগগুলো যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ভুক্তভোগীরা সার্ভেয়ার জাকির, মিজানুর রহমান ও মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলে ধরেন। কিন্তু দুদক কর্মকর্তারা উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে গিয়ে ওই তিন কর্মকর্তাকে খুঁজে পাননি। এ সময় সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা ওই তিন কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন বলে দুদক কর্মকর্তাদের জানান। দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপসহকারী রিয়াজ উদ্দিন জানান, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে রবিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ সময় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মিরসরাই উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে গেলে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে বলেও তিনি জানান।

দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ জানান, করেরহাটে ডিজিটাল ভূমি জরিপে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার দুদক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এক সপ্তাহের সময় নিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।