পটুয়াখালীর দুমকিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ অতিরিক্ত খনন করে পাকা সড়ক নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বেড়িবাঁধটি। জোয়ারের পানির চাপে বালু দিয়ে নির্মিত বাঁধটি ভেঙে গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এলজিইডির ঠিকাদার ব্যবসায়িক লাভের চিন্তায় বেড়িবাঁধের মাঝামাঝি চার-পাঁচ ফুট গভীর করে কেটে মাটির পরিবর্তে বালু ফেলে কাজ করছেন। এতে সায় আছে এলজিইডির প্রকৌশলীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সেলিম পটুয়াখালী’ চরম খামখেয়ালিপনার আশ্রয় নিয়েছে। মাটির বদলে বালু ফেলায় টেকসই বেড়িবাঁধটি হয়ে পড়েছে নাজুক।
মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম গাজী অভিযোগ করে বলেন, ওয়াপদা বেড়িবাঁধ কেটে ফেলায় আমরা শঙ্কিত। ঠিকাদার যেনতেন করে বালু ফেলে পাকাকরণের কাজ শেষ করে চলে যাবেন। কিন্তু নদীর জোয়ারের পানির চাপে বাইরের পাশের মাটি সরে গেলে বালুর বাঁধ ভেঙে পুরো গ্রাম তলিয়ে যাবে।
মুরাদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, রাস্তা পাকাকরণের নামে বাঁধ কেটে আরও ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। জোয়ারের পানির চাপে মাটি সরে বালুর বাঁধ ভেঙে এখন তলিয়ে যাবে বাড়িঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফসলাদি। এ বিষয়ে রাস্তা নির্মাণকারী ঠিকাদার মো. সেলিম বলেন, এলজিইডির দায়িত্বরত প্রকৌশলীর (এসও) পরামর্শানুযায়ী সঠিক নিয়মেই কাজ করা হচ্ছে।
এলজিইডি পটুয়াখালী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ঠিকাদার কার্যাদেশ অনুযায়ীই কাজ করছেন। এখন বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, বালুর বাঁধ কখনোই মাটির বাঁধের মতো শক্ত ও মজবুত হয় না।
তিনি আরও বলেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো চিঠিতে ঠিকাদারকে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কথা বলতে এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।