মানবতাবিরোধী অপরাধ

অপেক্ষায় জামায়াতের আজহারের রায়, জাপার কায়সারের আপিল শুনানি শুরু

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলের রায় জানা যাবে যে কোনদিন।

বুধবার শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রায়টি অপেক্ষমাণ রাখেন। আদালতে আজহারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর গত ১৮ জুন আজহারের আপিল শুনানি শুরু হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আসা এবং শুনানি শেষ হওয়া এটি দশম মামলা যা রায়ের পর্যায়ে এলো।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনানিতে বলেছি, ট্রাইব্যুনাল বিচার বিশ্লেষণ করেই এ টি এম আজহারকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন। তাই ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের কোন কারণ নেই। আমি আশা করি ট্রাইব্যুনালের এই রায় আপিল বিভাগেও বহাল থাকবে।’   

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুরে গণহত্যার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ১। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাত্তরে রংপুর অঞ্চলের অসংখ্য নারীকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি ওই সময় নির্যাতনের আরেকটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আজহারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি অভিযোগসহ ষড়যন্ত্র ও সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় প্রমাণিত হয়। ট্রাইব্যুনালের ওই রায় থেকে খালাস চেয়ে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আইনজীবীদের মাধ্যমে আপিল করেন আজহার।

জাতীয় পার্টির কায়সারের আপিল শুনানি শুরু

এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিলের শুনানি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুরু হয়েছে।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চে কায়সারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান শুনানি শুরু করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ চালানোর অভিযোগে হবিগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার ও শান্তি কমিটির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডসহ ২২ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একাত্তরে ১৫২ জনকে হত্যা-গণহত্যা, ২ নারীকে ধর্ষণ, ৫ জনকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় এবং দুই শতাধিক বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ,  লুণ্ঠন এবং ষড়যন্ত্রের ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয় কায়সারের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ধর্ষণের অভিযোগে ওই রায়ে যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফাঁসির দণ্ডাদেশ পান কায়সার। ট্রাইব্যুনালের ওই সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার। দীর্ঘ দিন ঝুলে থাকার পর এই মামলাটিও আপিল বিভাগে শুনানির পর্যায়ে এলো।