‘যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস’- আপিল বিভাগের এমন অভিমত পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে মামলাটির রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে তা অপেক্ষমাণ রেখেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ।
এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি (আদালতে আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে মতামত দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজাক খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিনকে মনোনীত করে আপিল বিভাগ।
ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ তার মতামত তুলে ধরেন। আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও শিশির মুহাম্মদ মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব শুনানিতে বলেন, দণ্ডবিধিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড নামে কোনো দণ্ড নেই। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ (এ) এবং জেলকোডের সংশ্লিষ্ট বিধান অকার্যকর হয়ে যায় এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১, ৪০২ এবং দণ্ডবিধির ৫৫ ধারায় প্রদত্ত সরকারের ক্ষমতা খর্ব করে।
তিনি বলেন, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সংশোধন ও সংস্কার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ কারা কর্তৃপক্ষ ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’কে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করেছে। তর্কিত রায়ে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার এই স্পিরিটকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
খন্দকার মাহবুব এ সংক্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নজির আদালতে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, সমন্বিত শাস্তি ব্যবস্থা ও প্যারোল বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন বলে মত দেন।
২০০১ সালে সাভারে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০০৩ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে আতাউর মৃধা ওরফে আতাউর ও আনোয়ার হোসেন নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। পাশাপাশি দুজনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট এক রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করলে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এক রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পাশাপাশি যাবজ্জীবন মানে ‘আমৃত্যু কারাবাস’সহ সাত দফা অভিমত দেন সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামি আতাউর মৃধা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।