ব্রিটিশ ট্যাংকার ‘আটকানোর চেষ্টা’

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তিনটি জাহাজ বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) নিয়ন্ত্রিত একটি ট্যাংকারের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও আঞ্চলিক তৎপরতা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এমন ঘটনা ঘটল।

‘ব্রিটিশ হেরিটেজ’ নামের বিপির ট্যাংকারকাণ্ডের পর ইরানকে ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের’ তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। উপসাগরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, এইচএমএস মনট্রোজকে ব্রিটিশ হেরিটেজ ও ইরানের জাহাজগুলোর মাঝামাঝি অবস্থান নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। একই সঙ্গে মৌখিক হুঁশিয়ারি দিতে হয়েছে। এরপরই ইরানের জাহাজগুলো পিছু হটেছে।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে জিব্রাল্টার প্রণালিতে যুক্তরাজ্যের রয়াল মেরিন সদস্যরা ‘গ্রেস ১’ নামে ইরানীয় একটি ট্যাংকারে চড়ার পর এটি আটক করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরিয়ায় তেল বহনকারী সন্দেহে জাহাজটিকে আটক করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের এই তৎপরতার জবাব দেওয়া হবে। তবে সবশেষ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফকে উদ্ধৃত করে দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের দাবি ‘গুরুত্বহীন’।

বিপির এক মুখপাত্র জানান, তাদের প্রধান অগ্রাধিকার জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপত্তা। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য না করলেও সহায়তার জন্য রয়াল নেভিকে ধন্যবাদ জানাই।’

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের অলাভজনক গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান চ্যাটহ্যাম হাউজে এক অনুষ্ঠানে উপসাগরে চলমান উত্তেজনা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে বিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বব ডুডলি বলেন, ‘আমাদের জাহাজগুলোর বিষয়ে খুবই সতর্ক হতে হবে।’

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল চলাচল পথ হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারীদের সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন প্রান্তের বাজারের সংযোগ স্থাপনকারী। সবচেয়ে সংকীর্ণ পয়েন্টে এটি মাত্র ২১ মাইল চওড়া। কিন্তু জাহাজ চলাচল করে দুদিকের মাত্র দুই মাইল জায়গাজুড়ে।

জাহাজ চলাচলের নথি থেকে দেখা যায়, গত বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ব্রিটিশ হেরিটেজের পথ ধরেছিল যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী অশোধিত তেলের ট্যাংকার প্যাসিফিক ভয়েজার। বৈশ্বিক অর্থবাজার ও অবকাঠামোর উপাত্ত প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ জানায়, যুক্তরাজ্যের নিবন্ধিত আরও চারটি ট্যাংকার উপসাগরে রয়েছে।

বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে ২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তির শর্ত থেকে ইরান সরতে শুরু করলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ওই চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে তেলের মূল বাজারগুলো হারিয়েছে ইরান। দেশটি এখন অপ্রচলিত পদ্ধতিতে অশোধিত তেল বিক্রি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।