বিশ্বকাপের ভেতর হইচই ফেলে দেওয়া সেই খবরকে অস্বীকার করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। বলছেন, ফ্যাফ ডু প্লেসির সঙ্গে ফোনালাপের সময় নিজেকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়ার অনুরোধ করেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকা এবার প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। কয়েক ম্যাচ হারার পর খবর চাউর হয়, বিশ্বকাপ দল ঘোষণার ঠিক আগে ডি ভিলিয়ার্স অবসর ভাঙতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বোর্ডের কারণে তাকে নেওয়া হয়নি। পরে সংবাদ সম্মেলনে ডু প্লেসি নিজে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। সেদিন প্লেসিও জানান, ভিলিয়ার্স খেলতে চেয়েছিলেন।
২০১৮ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা ভিলিয়ার্স ক্রিকইনফোর কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার অবসর ঘোষণার দিন একজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে আলাপ করেন। জানতে চান বিশ্বকাপের জন্য আমাকে তারা বিবেচনায় রাখবেন কি না। আমি বলেছিলাম হ্যাঁ। কিন্তু নিজে থেকে প্রস্তাব দেইনি।’
‘এরপর কয়েক মাস কেটে যায়। কেউ আর যোগাযোগ করেনি। আমি তাদের কল দেইনি। তারাও দেয়নি।’
ডু প্লেসির সঙ্গে সেই ফোনালাপের বিষয়ে কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের বক্তব্য, ‘ফ্যাফ আর আমি সেই স্কুল থেকে বন্ধু। বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার দুদিন আগে তার সঙ্গে আলাপ করি। তখনও তাকে একই কথা বলি। যদি প্রয়োজন হয়, তবেই খেলতে পারি…বলেছিলাম একমাত্র প্রয়োজন হলে।’
‘আদৌ আমি খেলার কোনো প্রস্তাব দেইনি। দলে ঢোকার কোনো চেষ্টাই করিনি।’
এতদিন বাদে মুখ খোলার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মারকুটে এই ব্যাটসম্যান জানান, টুর্নামেন্টের সময় তিনি দলের মনযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে চাননি।
ভিলিয়ার্সের ফেরার কথা শুনে ক্রিকেটবিশ্বে বেশ সমালোচনা শুরু হয়। শোয়েব আকতার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ বলতে থাকেন, তিনি আসলে টাকার জন্য জাতীয় দলকে বিদায় বলেছেন; যাতে লিগে ভালোভাবে খেলতে পারেন।
এমন সমালোচনার জবাবে ‘মি. ৩৬০ ডিগ্রি’ বলেন, ‘আমার উপর থেকে চাপ কমাতে ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ি। স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে আরেকটু বেশি সময় কাটাতে চেয়েছি। মানুষ আমাকে ভুল বুঝেছে। সত্যটা হল আমি অনেক লোভনীয় প্রস্তাব ছেড়ে দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি বছরে মাত্র তিনমাস বাইরে থাকব।’