মেহেরপুরে বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে মেহেরপুর-কুষ্টিয়াসহ সকল রুটে তৃতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে, সকালে মেহেরপুর জেলা থেকে আজও কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।
এদিকে শনিবার থেকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কেও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে মেহেরপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের সাধারণ যাত্রীরা।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদেরকে অবৈধ আলগামন, নসিমন, পাওয়ার ট্রলার, ইজিবাইকে এবং মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
অনেকে আবার বৃষ্টিতে দূর গন্তব্যে ও অফিস আদালতে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
মেহেরপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, আন্তঃজেলার সকল রুটে টানা ৩৬ দিন বাস চলাচল করলে একটি গাড়ি টানা ৪৬ দিন বন্ধ থাকে।
এতে শ্রমিকদের কর্মহীন হয়ে বেকার বসে থাকতে হয়। বন্ধের সময়সীমা কমাতে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে প্রতিটি বাস দু’বার চলাচলের পরিবর্তে একবার চালানোর দাবি শ্রমিকদের।
মালিকপক্ষ যতদিন এই দাবি না মানবে ততদিন বাস চলাচল বন্ধ রাখবে শ্রমিকরা। গত ১১ জুলাই ভোর থেকে চলছে এই বাস ধর্মঘট।
এদিকে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শ্রমিকদের এই দাবি আগেও মানা হয়েছিল। পরবর্তীতে শ্রমিকরাই তা পরিবর্তন করেছে। শ্রমিকরা মালিকদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই এই ধর্মঘট শুরু করে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে মালিকপক্ষ এই ঘটনার জন্য কতিপয় শ্রমিক নেতাকে দায়ী করে তাদের আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় মালিকরাও বাস চলাচল অনিরাপদ বলে মনে করছেন।
মালিক ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা- কুষ্টিয়া রুটের চাইতে মেহেরপুর জেলায় অভ্যন্তরীণ বাস রুটের চাইতে বাসের সংখ্যা বেশি। এ কারণে একটা বাস দিনে দুইটি ট্রিপ পেলে অন্য বাসকে বসে থাকতে হয়। আবার দিনে একটা মাত্র ট্রিপ মেরে বসে থাকলে সেই অর্থ মালিক ও শ্রমিক উভয়ের ক্ষেত্রেই লোকসান হয়ে দাঁড়ায়।
মেহেরপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, মালিক ও শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এই ধর্মঘট। কোনো আলোচনা ও ঘোষণা ছাড়াই এমন বাস ধর্মঘট জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। পুলিশ পক্ষ উভয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে বাস চলাচল শুরু করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।