ক্যানটিন মালিকের লাখ টাকা মেরে দিলেন জসীম উদ্দীন হলের ৩ ছাত্রলীগ নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হলের ভিপি, জিএস ও এজিএসের বিরুদ্ধে এক লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন ক্যানটিন মালিক।

শনিবার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. রহমতউল্লাহর কক্ষে তিনি মৌখিকভাবে তার অভিযোগ জানান। এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ক্যানটিন মালিক মনির হোসেন হল প্রভোস্টকে বলেন, রোজার মাসে ছাত্রলীগের ভিপি ফরহাদ আলি, জিএস এমাম হাসান ও এজিএস সাইফুল ইসলাম তার কাছ থেকে দুই বারে এক লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দেন।

তিনি জানান, ক্যানটিনের খাবারের মান খারাপ এ অভিযোগ কাজে লাগিয়ে তারা চাঁদা চান। হল প্রভোস্টকে রাজি করিয়ে তাকেই আবার ক্যানটিন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে এমন লোভও দেখান ছাত্রলীগ নেতারা।

ওই ক্যানটিন মালিক বলেন, চাঁদা না দিলে মরা টিকটিকি ইত্যাদি তারা মেরে ক্যানটিনের খাবারে রেখে দিয়ে সবাইকে দেখাবেন। তখন সবাই বলবে ক্যানটিনের খাবারের মান খারাপ- এসব হুমকি দেন ওই তিন নেতা।

এরপর মনির হোসেন নিজের জমানো ৭০ হাজার এবং সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার করে তাদের হাতে তুলে দেন। কিছু দিন আগে সাইফুল ইসলাম আবার তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

তিন নেতার ভয়ে প্রভোস্টকে তিনি ঘটনাটি আগে অবহিত করেননি বলে জানান। 

এ সময় প্রভোস্ট তাকে খাবারের মান ভালো রাখতে পরামর্শ দেন। ক্যানটিনের মালিকের টাকা ফেরতে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ড. মো. রহমতউল্লাহ ক্যানটিন মালিককে বলেন, খাবারের মান খারাপ নিয়ে যখন সাধারণ ছাত্ররা প্রশ্ন করে তখন তিনি ছাত্রলীগের নেতাদেরই আবার ডেকে আনেন। এসব বন্ধ করে খাবারের মান ভালো করতে প্রভোস্ট মনির হোসনেকে উদ্বুদ্ধ করেন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসকে ফোন করলেও তিনি ধরেননি।