দুদলই জিততে পারে, খেলাটা উপভোগ করো

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা অনেক আগে থেকে লর্ডসে ফাইনাল খেলার আশা করে আছে, অপেক্ষার প্রহর গুনছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবে বলে নিজেদের ধারা বদলে ফেলেছে বর্তমান ইংল্যান্ড দল। না, আমি অহংকারের সুরে কিছু বলছি না। হুম, আমাদের মতো অন্য দলগুলো একই আশা করেছিল। তবে আমাদের এই দলের বিশ্বাস ছিল যে, আমাদের এবার বিশেষ কিছু করার ক্ষমতা আছে। আর ফাইনাল খেলা হলো আমাদের সেই অর্জনের পথে একধাপ।

আমরা এখানে আসতে পেরে খুব উছ¡সিত, কিন্তু যদি আমরা কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারি, অর্থাৎ শিরোপার ছোঁয়া না পাই তাহলে আমরা যারপরনাই হতাশ হব। আমরা গত চার বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি, নিজেদের ভেঙে গড়েছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণ করেছি আমরা কতটা ভালো খেলতে পারি, কতটা বিপজ্জনক হতে পারি। এখন আমরা জানি এই লর্ডসে শিরোপা জেতার জন্য এত কষ্ট করেছি। এটা সত্য যে, ফাইনালে অংশ নেওয়া, দলের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। তবে আমরা আমাদের এই কষ্ট বৃথা যেতে দেব না। আমরা প্রমাণ করতে চাই, শুধু ফাইনাল খেলা নয় বরং শিরোপা জিততে এখানে এসেছি।

আমরা শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছি ২৭ বছর আগে। এটা ভাবলেই আমার কাছে অবাক লেগে ওঠে। এত লম্বা সময় ধরে আমরা ফাইনাল খেলতে পারিনি! তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১। আমার এজেন্ট নেইল ফেয়ারব্রাদার সেই ম্যাচ খেলেছিল। সে আমাকে বলেছে কত দীর্ঘ সময় পর আমরা আবার ফাইনাল খেলছি! আমরা এখন এমন জায়গায় আছি যেখান থেকে নতুন ইতিহাস লেখা সম্ভব। এখন পর্যন্ত কোনো ইংল্যান্ড দলই ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তাই প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয়, এবং সে দলের অংশ হতে পারা অবিশ্বাস্য রকম গর্বের। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছানোও দারুণ অনুভূতি ছিল। অজিরা কোনো দলকে সুযোগ দিতে চায় না। আমরা এটা অর্জন করে নিয়েছি। অসাধারণভাবেই অর্জন করেছি।

সেমিফাইনালের পুরো দিন আমি স্নায়ুচাপে ছিলাম। খেলার দিন সকালে আমি ভোর ৬:৩০-এ ঘুম থেকে উঠি। আমার মনে পড়ে না শেষ কবে আমি খেলার জন্য এত ভোরে উঠেছিলাম। অজিদের সঙ্গে আমরা খুব সহজেই জিতেছি। কিন্তু ম্যাচের মাঝে জেতার আগ পর্যন্ত আমাদের তা মনে হয়নি। আমি জানি না এটা কি শুধু আমার ক্ষেত্রে হয়েছে কি না। কিন্তু শীর্ষে থাকলে সবসময় দ্রুত পতনের ভয় থাকে।

আমাদের যখন ৭০ রানের মতো লাগে, মাঠে রুট আর মরগানও দারুণ খেলছিল। তখনো আমার ভেতর ভয় হচ্ছিল যে, এখন না জানি মিচেল স্টার্ক চারটা ইয়র্কারে ব্যাটসম্যানদের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলে আর আমরা চাপে পড়ে যাই। আমার মনে হয় বড় ম্যাচ খেলার চাপ একেই বলে। এবং জয় থেকে যখন মাত্র আর ২০ রান দূরে তখন আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি যে আমরা জিতছি। আর ড্রেসিং রুমের আবহও বদলাতে থাকে।

যখন জয়সূচক রানটা নেওয়া হলো, সত্যি বলতে এটা অসাধারণ এক মুহূর্ত ছিল। ড্রেসিং রুমের সবাই তখন জয়োল্লাস করতে থাকে। এরপরে প্রায় আধাঘণ্টা আমরা সব খেলোয়াড়, কোচ আর স্টাফরা মিলে ড্রেসিংরুমে জয় উদযাপন করতে

থাকি। এরপরে আমাদের পরিবাররা এসে যোগ দেয়। এটা দারুণ অনুভূতি ছিল। কারণ আমাদের ক্যারিয়ারের এই ভালো সময়ে যারা আমাদের এতসব অর্জনে পাশে ছিল তারাও আমাদের সঙ্গে উদযাপনে ছিল। তারাই আমাদের সেরা সমর্থক। রবিবারে আমরা নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছি। আমি আমার বাবা-মা এবং কিউই পরিবারের কাছে বলতে চাই দু’দলের জেতার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। তাই খেলা উপভোগ করুন।

নিউজিল্যান্ড দুর্দান্ত একটা দল এবং আমি তাদের বিপক্ষে খেলতে ভালোবাসি। না এখানে শুধুমাত্র পরিবারের যোগসূত্র নয় বরং তারা খেলাটাকে যেভাবে খেলে, যে মনোভাব নিয়ে খেলে এটা সত্যি দুর্দান্ত। তারা মানুষ হিসেবে দারুণ। কিন্তু মাঠে তারা ছেড়ে কথা বলে না। এবং দলে কিছু বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে যারা জয় ছিনিয়ে নিতে জানে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা এগিয়ে থাকব। শেষ তিন ম্যাচের মতো খেলতে পারলে আমরা আমাদের জয় খুব সহজে পাব। এবং তাদের জন্য খেলাটা কঠিন করে তুলতে পারব। ফাইনালের উত্তেজনায় উত্তেজিত না হয়ে আমরা খেলার দিকে মনোনিবেশ করতে পারব বলে বিশ্বাস আমাদের এবং এটা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করছি, সকল প্রকার বাধা উড়িয়ে একটা দারুণ ঘুম দিতে পারব। আর সকালে ঘুম ভাঙলে গত চার বছরের মতো নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সাধারণ ক্রিকেট ম্যাচের মতো সেরা পারফরম করতে পারব।

আশা করি ফাইনালে ইংল্যান্ডের জয়ে আমি অবদান রাখতে পারব। আর এটাই এখন আমার একমাত্র চাওয়া।

 (দা মিরর-এ প্রকাশিত কলাম থেকে নেওয়া)