আমি স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখব। ওদের শেষ তিন ম্যাচের ধারাবাহিকতাই এর পক্ষে প্রমাণ দিচ্ছে। আর মনে হচ্ছে ইংল্যান্ডের বাজে সময় কেটে গেছে। এখন পুরো দল ফর্মে। সেদিক থেকে নিউজিল্যান্ডের খারাপ সময় এখনো আসেনি। ইংল্যান্ড দুটো বাজে ম্যাচ হেরেছিল শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের সঙ্গে। গত কয়েক বছরে তারা ওয়ানডে ক্রিকেটে সেরা দল। তাদের বেশ কিছু ভালো ব্যাটসম্যান আছে, টপঅর্ডার, মিডলঅর্ডার; ভালো অলরাউন্ডার আছে। ভালো বোলিং লাইনও আছে। এদিক থেকে তুলনা করলে নিউজিল্যান্ডের তেমন কিছু ছিল না। তবুও ভারতের মতো শক্তিশালী ও টপ ফেভারিট দলকে তারা হারিয়ে দিয়েছে। তাই আমার চোখে ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৭০ ভাগ আর নিউজিল্যান্ডের ৩০ ভাগ।
নিউজিল্যান্ডের সম্ভাবনা কম বললেও তাদের হালকাভাবে দেখা উচিত হবে না। তারা সেটা সেমিফাইনালে দেখিয়েছে। যদি শুরুতে উইকেট নিতে পারে, ইংল্যান্ড আগে ব্যাট করলে তাদের রানটা যদি তিনশোর নিচে রাখতে পারে তবে ভালো সুযোগ থাকবে নিউজিল্যান্ডেরও। যদি কিউইরা আগে ব্যাট করে, ওদের যে ব্যাটিং শক্তি দেখছি তাতে ২৫০ বা ২৭০ করতে পারে। কারণ ওরা একজন ব্যাটসম্যানের ওপরই নির্ভরশীল। কেন উইলিয়ামসন প্রতি ম্যাচেই রান করেছে বলে ওরা ফাইনাল পর্যন্ত আসতে পেরেছে। এখনো পর্যন্ত গাপটিল রান করেনি। সে রান করলে হয়তো তিনশো তুলতে পারে কিউইরা। এরপরও বলব ইংল্যান্ডের এই ব্যাটিং লাইনের জন্য তিনশো রান তাড়া করা খুব একটা কঠিন না। তারপরও ‘ফাইনাল ইজ ফাইনাল’ এখানে যে কোনো দল যে কোনো স্কোর নিয়ে লড়াই করতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছে। ওরা অন্যের সহযোগিতায় উঠেছে এমন কথাও এসেছে। কিন্তু আমরা যদি ১৯৯২ সালের পাকিস্তানের দিকে তাকাই, ওই দলটি কিন্তু এর চেয়েও বাজেভাবে সেমিফাইনালে উঠেছিল। সেখান থেকে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে থামে। ফাইনালে কাউকে ছোট-বড় করা যায় না। তাই আমি নিউজিল্যান্ডের দিকে ৩০ ভাগ রেখেছি। কিন্তু শক্তিমত্তার দিক থেকে অবশ্যই ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ওপেনিংয়ে ভালো করা ক্রিকেটে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি এই টুর্নামেন্টে দেখি, জেসন রয় ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলতে পারেনি। ঠিক ওই দুটি ম্যাচেই ইংল্যান্ড হারে। আবার ভারতের সঙ্গে জেসন রয় ফিরতেই জেতা শুরু করে। তবে একজন জেসন রয় বা রোহিত শর্মা দিয়ে তো বিশ্বকাপ জেতা যাবে না। রোহিত শর্মা সেমিফাইনালে বাজে করল সে ম্যাচেই ভারত হারল। কিন্তু ইংল্যান্ড জেসন রয়ের ওপর নির্ভরশীল না। ওদের ৮ নম্বর পর্যন্ত ভালো ব্যাটিং করতে পারা ব্যাটসম্যান আছে। নিউজিল্যান্ডেরও ৮ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যান আছে। কিন্তু ইংল্যান্ডের মতো ওরা সফল হতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের উইলিয়ামসন ও রস টেইলর ছাড়া ওপরের কোনো ব্যাটসম্যানই রান করেনি। এদিক থেকেও ইংল্যান্ড এগিয়ে। কারণ কোনো দল যদি ওপরে রান করে, তাদের মিডলঅর্ডার ফল করলেও শেষ পর্যন্ত তিনশো বা তার কাছাকাছি যাওয়া যায়। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের এমন কিছু না হওয়ায় ২২০-২৩০ দিয়েই লড়তে হচ্ছে।
বোলিং ডিপার্টমেন্ট দুই দলেরই ভালো। পেস অ্যাটাকে কোনো দলকে তুলনা করার সুযোগ নেই। দুটোই সমানে-সমান। তবে স্পিনে বলতে হলে নিউজিল্যান্ডের স্পিনার স্যান্টনার এগিয়ে থাকবে। আদিল রশিদ ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগানের ইচ্ছাতেই খেলছে এবং শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন উইকেট নেয়। এতে অধিনায়কের সম্মান থাকে। এছাড়া পেসে দুই দলের সুইং বোলার আছে এবং সবাই ভালো করছে। ফিল্ডিংয়েও দুই দল সমানে সমান। কিন্তু ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড এগিয়ে।
এটা নিশ্চিত ফাইনালে দুই দলই তাদের ‘অ্যাপ্লিকেশন’ সফল করার জন্য সর্বোচ্চটা দেবে। তবুও ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ বেশি।