আমি অবশ্যই ইংল্যান্ডকে শক্তিশালী দেখছি। আমি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই চারটি দলের নাম বলেছিলাম যারা সেমিফাইনালে খেলবে। এর মধ্যে এক নম্বরে রেখেছিলাম ইংল্যান্ডকে। যথারীতি ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল খেলে ফাইনালেও খেলছে। ওভারঅল ওরা যে এগিয়ে তা স্পষ্ট।
ব্যাটিংয়ে ওদের ওপেনারের দিকে তাকালে আমরা দেখছি যে টুর্নামেন্টের সেরা ওপেনার ওদের। সেরা জুটিও কিন্তু ওদের। জনি বেয়ারস্টো এবং জেসন রয় যেভাবে ব্যাটিং করছে, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের ব্যাটেই ইংল্যান্ডের চিন্তা কমে যাচ্ছে। এছাড়া মিডলঅর্ডারের দিকে যদি তাকাই সেখানেও ইংল্যান্ড এগিয়ে। ওদের মিডলঅর্ডারে কিন্তু খুব ভালো ব্যাটসম্যানরা আছেন, যেমন জো রুট, ওয়েন মরগান। ওপেনাররা ব্যর্থ হলেও ওরা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ওরা এমন ব্যাটসম্যান যে প্রতিটা ম্যাচে একজন ওপেনার ব্যর্থ হলে অপরজনকে দুর্দান্ত ভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে। আবার শেষদিকে যদি দ্রুত রান দরকার হয় সেখানেও ইংল্যান্ড সেরা। কারণ জস বাটলার, বেন স্টোকস ও ক্রিস ওকস আছে। ওরা দ্রুত রান তুলতে পারে। দেখা যাচ্ছে প্রতিটা পজিশনে ইংল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটার আছেন। তাই অবশ্যই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখব।
যদি বোলিং বিভাগ নিয়ে কথা বলতে হয় সেখানেও কিন্তু ইংল্যান্ড এগিয়ে। ওদের শুরুর দুই বোলার ক্রিস ওকস ও জোফরা আর্চারকে দেখেন। প্রতিটা ম্যাচে ওরা ব্রেক থ্রু এনে দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যেভাবে ওরা ব্রেক থ্রু এনেছে এরপর কিন্তু অজিরা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। তাই বলব এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড এমন একটা দল, যাদের প্রতিটা পজিশনে যেমন ক্রিকেটার দরকার ঠিক তেমন ক্রিকেটারই আছেন।
এছাড়া এই টুর্নামেন্টে ওপেনিং জুটিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্ট জুড়ে আমরা দেখেছি যখনই শুরুর তিন ব্যাটসম্যান খারাপ করেছে তখনই ওই দলের ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়েছে। দুটি সেমিফাইনালেও তাই হয়েছে। ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের শুরুর তিনজন দ্রুত আউট হওয়ার পর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। তাই লক্ষ্যটা এত অল্প হওয়ার পরও ম্যাচ হেরেছে। আবার অস্ট্রেলিয়ারও এমন হয়েছে। শুরুর তিন ব্যাটসম্যান ফল করার পর বড় স্কোর করতে পারেনি। শুধু এ দুটো ম্যাচ না। পুরো টুর্নামেন্টেই এমন হচ্ছে যে ওপেনার বা নাম্বার তিন খারাপ করলে দলও খারাপ করছে। এদিক থেকে অবশ্যই ইংল্যান্ড এগিয়ে কারণ নিউজিল্যান্ডের ওপেনারদের চেয়ে তাদের ধারাবাহিকতা বেশি।
সে জন্য নিউজিল্যান্ড অবশ্যই চাপে থাকবে। কিন্তু এমন কিছু দল আছে যারা প্রতি ম্যাচে উন্নতি করে। ছোট-ছোট উন্নতি করে তারা ভালো কিছু পায়। নিউজিল্যান্ড এমন এমন দল। তারা প্রতি ম্যাচে অল্প-অল্প উন্নতি করেছে, এজন্যই তারা কিন্তু ফাইনাল খেলছে। তাই বড় বড় দলগুলোকে হারিয়ে যখন ফাইনালে এসেছে তখন নিউজিল্যান্ডকেও হালকাভাবে দেখা যাবে না।
বোলিংয়ের দিক থেকে অবশ্যই দুই দল এগিয়ে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় যে শক্তি সেটা হলো ওদের বোলিং। ইংল্যান্ডের পুরো দলটাই ভালো। একজন কোচ হিসেবে বলব, কোচ যা যা চায় ইংল্যান্ড দলে সব আছে। তেমনিভাবে নিউজিল্যান্ডের বোলিং অ্যাটাককে বলব ১০ দলের মধ্যে সেরা। পুরো টুর্নামেন্টে বেশিরভাগ ম্যাচ ওরা বোলিং বিভাগের জন্যই জিতেছে। তাই আমি বলব যদি নিউজিল্যান্ড বোলিংয়ে শুরুটা ভালো করে তাহলে ম্যাচটা সত্যিই উপভোগ্য হবে। নিউজিল্যান্ডকে বোলিং শক্তি দিয়ে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই।
আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলোÑ বিশ্বে যদি কোনো শান্ত অধিনায়ক থাকে তাহলে তারা এই দুই দলে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে। মরগান ও উইলিয়ামসনকে কখনোই দেখিনি মাঠে মাথা গরম করছে। টুর্নামেন্টে দুই দলই ক্যাচ মিস করেছে, ফিল্ডিং মিস করেছে কিন্তু দুজনের কাউকে দেখিনি কোনো এক্সপ্রেশন দিতে। উইলিয়ামসনের মতো এত ‘সেন্সিবল’ অধিনায়ক আমি আগে দেখিনি। দুই অধিনায়কই আমার কাছে সেরা।
ওভারঅল আমি ইংল্যান্ড সমর্থন করি, আমি চাই যে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হোক। কিন্তু আমার মনে হয় না আজ নিউজিল্যান্ড এত সহজে ছেড়ে দেবে। তারা যেহেতু ফাইনালে উঠেছে, অবশ্যই ওদের পরাশক্তি বলতে হবে। আর এসব দল ছোট-ছোট উন্নতি করে যখন বড় উপলক্ষ পায় তখন সেরাটাই দেয়। তবে নিজের মতামত দিতে হলে বলব ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হোক।