ওবামার প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশে ইরানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেন ট্রাম্প

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আক্রোশ থেকে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সদ্য পদত্যাগকারী ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ডারোখের ফাঁস হয়ে যাওয়া ই-মেইলে এমন তথ্য বেরিয়ে আসে।

২০১৫ সালে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিটি করে ছয় বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও চীন। এই চুক্তির আওতায় ইউরেনিয়াম উৎপাদন সীমিত করে ইরান।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামার সময়ে হওয়া ওই চুক্তি নিয়ে বরাবরই বিরোধিতা করে আসছিলেন ট্রাম্প। ফলে ক্ষমতায় গেলে এই চুক্তি তিনি বাতিল করবেন, এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্বাচনী প্রচারণায়।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী গত বছরের মে মাসে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন অজুহাত দেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেন ট্রাম্প।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইলের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ছিল মূলত ওবামার প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ।

২০১৮ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বহাল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় স্যার কিম ডারোখ ওই মেইলটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান । পুরো বিষয়কে  তিনি কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত বলে বর্ণনা করেন।

গত বুধবার পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিম ডারোখ। সম্প্রতি ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ডারখের বেশ কিছু স্পর্শকাতর ই-মেইল ফাঁস হয়েছে মেইল অন সানডে পত্রিকায়। এরপর রাষ্ট্রদূতের সমালোচনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে বলেন, “আমরা আর তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখব না।”

এসব ইমেইলে হোয়াইট হাউসকে ‘অদক্ষ’ ও ‘ব্যতিক্রমী অকার্যকর’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পাঠানো এসব ইমেইলে স্যার কিম খোলাখুলিভাবে ইরান, রাশিয়া ও চীন সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। যেমন; ২২ জুন রাষ্ট্রদূত লেখেন, “'ইরান প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি খুব তাড়াতাড়ি আরও সুসংলগ্ন হবে বলে মনে হয় না। এটা একটা বিভক্ত প্রশাসন।”

কিন্তু স্যার কিম লেখেন, “সম্ভবত ট্রাম্প কখনোই পুরোপুরিভাবে দায়িত্ব নিতে চাননি এবং তিনি বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর যেসব পরিবর্তন করেছেন, সেটা কীভাবে ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।”

তবে রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে। কারণ ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকে এ বিষয়ে কঠোর।

দুই বছর আগের একটি বিস্তারিত বিবরণীতে ট্রাম্প প্রচারণা ও রাশিয়ার গোপন আঁতাতের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লেখেন। যদিও এসব অভিযোগের ব্যাপারে খুব একটা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়াও ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জানান, ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বৈদেশিক নীতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমনকি পুরোনো মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে আছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।

এ দিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কীভাবে এসব ইমেইল ফাঁস হলো- সেটি খুঁজে বের করতে তারা তদন্ত করছেন।