সদ্যপ্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে বিএনপি সবচেয় বেশি নীপিড়নের শিকার হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভীর কাছে রোববার সকালে হুসেসইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রিজভী এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিভাগীয় সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৮ তারিখ বরিশাল, ২০ তারিখ চট্টগ্রাম- এসব নিয়ে আমরা ব্যতিব্যস্ত। কয়েকদিন পরে জানাবো।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার বিরেোধী আন্দোলনের ওই সময়ে আমাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন-নির্যাতনের মাত্রাটা বহন করতে হয়েছিল। সে সময়ের দিনগুলো স্মরণ করলে এখন শিহরিত হয়ে উঠতে হয়। আমরা এখন আমাদের নেত্রীর মুক্তি দিয়ে ব্যস্ত। অন্য কিছু নিয়ে ভাবনার সময় এখন নেই।’
বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা সাহেব বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি থাকার পরেও বিচার পাইনি আর এখন তো ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। একজন প্রধান বিচারপতি তার স্বাধীন বিচারকর্মের কারণে তাকে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। কিভাবে চলে যেতে হয়েছে, কারা চলে যেতে তাকে বাধ্য করেছেন এটা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন। কী ভয়ংকর পরিস্থিতিতে সরকারের লোকেরা মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাকে দেশছাড়া করেছে। এখন তার বিরুদ্ধে নতুন করে যে মামলা দেওয়া হয়েছে তা গোটা বিচার বিভাগের জন্য সরকারের সর্তক সংকেত।’
সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথার বলার কারণেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘সরকারের কুকীর্তি-অপকীর্তি এবং অনাচারের প্রতিবাদ করার জন্যই তিনি কারাগারের ক্ষমতার নেশায় মজে শেখ হাসিনা অন্যায়কে ন্যায় এবং ন্যায়কে অন্যায় হিসেবে প্রতিপন্ন করছেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ঘোরবিরোধী সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী শেখ হাসিনা গায়ের জোরে বেগম জিয়াকে আটকিয়ে রেখেছেন। শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ দেশনেত্রীকে এই মুহূর্তে মুক্তি দিতে হবে।’
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের আহ্বানও জানান রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।