ঈশ্বরদীর ভাষা শহীদ বিদ্যা নিকেতনের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছে।
রবিবার স্কুলের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটলে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তিনি রহস্যজনক কারণে নীরব থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার ওই স্কুল ছাত্রী, ছাত্রীর বাবা এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তারা জানান, গত ১১ জুলাই সকালে ভাষা শহীদ বিদ্যানিকেতনের ৯ম শ্রেণির ওই ছাত্রী জয়নগর ওয়াপদা গেটের সামনে ওই স্কুলের শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। তখনও আর কোন শিক্ষার্থী না আসায় সিরাজুল ইসলাম তাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানি করে। এসময় ছাত্রীর কান্নায় ওই শিক্ষকের স্ত্রী প্রাইভেট পড়ানোর কক্ষে চলে এলে তখন সিরাজ ঘর হতে বের হয়ে যায়।
ওই ছাত্রীটি জানায়, শিক্ষকের স্ত্রী উল্টো তাকেই বকাঝকা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের এক শিক্ষক জানান, ওই ছাত্রী প্রাইভেট শিক্ষকের বাড়ি থেকে সরাসরি স্কুলে আসে। স্কুলের এসেম্বেলিতে দাঁড়িয়ে সে কেঁদেই যাচ্ছিল। পরে বান্ধবীদের কাছে প্রকৃত বিষয়টি প্রকাশ করলে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরো জানান, গত ১৩ জুলাই শনিবার এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে মানববন্ধনের জন্য বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও তা করতে দেওয়া হয়নি।
ওই ছাত্রীর সাথে কথা বললে সে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার নিকট হতে একটি লিখিত আবেদন নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট গেলে প্রধান শিক্ষক বলেন, সামাজিক কিছু বিষয় রয়েছে। মেয়ের বিয়ে দিতে হবে। তাই বেশি হইচই করার দরকার নাই। আমিই ব্যবস্থা নিব।
তিনি বলেন, শিক্ষক দ্বারা যে এমন ঘটনা ঘটবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি রবিবার স্কুল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বলেছি। এসব ঘটনা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে ওই ছাত্রীকে দিয়ে মামলাও করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার কাছে স্কুল আগে, এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি জোমসেদ আলী ন্যক্কারজনক এই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।