কেউ রংমিস্ত্রি। কেউ ক্লিনার। কেউ বা কুলি। অথচ নিজ দেশে তারা ছোটখাটো শিল্পীর কাতারে ছিলেন। দুবাইয়ের শ্রমিক জীবন তাদের সেই মেধা থেকে দূরে রাখলেও ক্ষণিকের সুযোগে স্বপ্ন সত্যি করলেন মোহাম্মদ শহীদসহ আরো কয়েকজন।
খালিজ টাইমস জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক শহীদ শ্রমিকদের ট্যালেন্ট হান্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা জিতেছেন। যা তার বেতনের প্রায় দশগুণ। শহীদ পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান।
শহীদের মতো কয়েকশ শ্রমিক অংশ নিয়েছিলেন কালারস কা সারতাজ শোতে। এটি ছিল দ্বিতীয় আসর। শহীদ বলিউডের সুখবিন্দর সিংয়ের গান গেয়ে শোনান।
চলতি বছর আরেকটি প্রতিযোগিতায় জয় পান শহীদ। মে মাসের সেই প্রতিযোগিতায় তিনি এক লাখ টাকা জেতেন।
‘প্রথমবারের টাকা আমার বন্ধুর বোনের বিয়ের জন্য দিয়ে দেই। আমার মনে হয় আল্লাহ আমার কাজ দেখে খুশি হয়ে আবার আমাকে এখানে চ্যাম্পিয়ন করেছেন।’ বলছিলেন শহীদ।
শহীদ জানান, তিনি বিহারে একটি বাড়ি করছেন। সেখানে টাকা দরকার। প্রাইজমানি দিয়ে সেই বাড়ি করবেন।
দুবাইয়ের ওই প্রতিযোগিতা মূলত ‘ব্লু কলার’ কর্মজীবীদের জন্য। জব মার্কেটে দুটি টার্ম আছে। ‘হোয়াইট কলার’ এবং ‘ব্লু কলার’। যারা গ্র্যাজুয়েট তাদের ‘হোয়াইট কলার’ বলে। ‘ব্লু কলার’ বলা হয় যারা ‘স্কিলড ওয়ার্কার’ তাদের। হয়তো কেউ শিক্ষাগত দিক থেকে গ্র্যাজুয়েট না, কিন্তু কোনো ডিপ্লোমা করা আছে তাদের বলা হয় ‘ব্লু কলার’।
‘ব্লু কলারে’র মধ্যে আবার দুটি ভাগ আছে। এর একটি ফরমাল ব্লু কলার, অন্যটি ইনফরমাল ব্লু কলার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা অফিস সহকারী কিংবা ড্রাইভার কিংবা ক্লিনার হিসেবে চাকরি করেন, তাদের ফরমাল ব্লু কলার বলা হয়। ইনফরমাল ব্লু কলার করপোরেট জবের মতো না। তারা ফ্রিল্যান্স কাজ করে।
প্রতিযোগিতার ফাইনাল দেখতে প্রায় এক হাজার ‘ব্লু কলার’ কর্মজীবী হাজির হন।
ফিলিপাইনের নাগরিক রোদেল ফ্রান্সিসকো প্রথম রানারআপ হয়ে এক লাখ টাকা জেতেন। তিনি পেশায় কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ।
২৬ বছর বয়সী নেপালি কোরিওগ্রাফার কামাল রাই হয়েছেন দ্বিতীয় রানারআপ। তিনি দুবাইতে ক্লিনারের কাজ করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে উচ্ছ্বসিত কামাল বলেন, ‘দেশে থাকতে নাচ করতাম। কিন্তু তাতে পরিবার চলতো না। এক সময় দুবাইতে আসার সিদ্ধান্ত নেই। এখানে মনের মতো কাজ না পেয়ে ক্লিনার হয়ে যাই।’