বাবরি মসজিদ ভাঙার দিন দিল্লিতে কী ঘটেছিল জানালেন সালমান খুরশিদ

বাবরি মসজিদ ভাঙার দিন দিল্লির পরিস্থিতি এবং ততকালীন ভারত সরকারের ততপরতা উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া একটি বইতে। সেই সময়ে নরসীমা রাও সরকারের মন্ত্রী সালমান খুরশিদ এ বই লিখেন।

এনডিটিভি জানায়, এ মাসের শুরুতে প্রকাশ হয় কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদের বই-ভিজিবল মুসলিম, ইনভিনসিবল সিটিজেন: আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইসলাম ইন ইন্ডিয়ান ডেমোক্রেসি"। এতে উঠে আসে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস রুখতে কেমন সচেষ্ট ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থরা।

তিনি দাবি করেন, সে সময় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন রাজেশ পাইলট। অযোধ্যার জনগণকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে ঘটনার দিনই তিনি কথা বলতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাওয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টির আমল দেওয়া হয়নি কারণ সেই সময় রাও ঘুমিয়ে ছিলেন।

মসজিদ ভাঙার পরপরই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে মুসলিমরা। খুরশিদের বইতেও ঘটনা পরবর্তী দেশের আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানান প্রশ্ন ওঠে।

খুরশিদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, “৬ ডিসেম্বর রাতে, আমি কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজেশ পাইলটের কাছে গিয়েছিলাম কারণ মসজিদ এলাকার আশপাশের ভিড় ক্রমশই বাড়ছিল। তিনি এই বিষয় সহমত হয়ে বলেন যে, যদি কয়েকজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে রাজি করাতে পারেন তবেই তিনি ফৈজাবাদে যাবেন।”

খুরশিদ তার বইয়ে লিখেন, “আমি মন্ত্রী জাফর শরিফের কাছে যাই, যাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করতে পারেন। তিনি ফোন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেন, প্রধান সচিব এ এন ভার্মা বা স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে, যাতে দ্রুত উত্তরপ্রদেশ পৌঁছানো সম্ভব হয়।” ভার্মা তখন কিছু প্রশ্ন করেন, যদিও এটা স্পষ্ট হয়নি যে, ঘটনাস্থলে তখনই যাওয়া সম্ভব কিনা।

এই কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, “তারপর আমরা পাইলটের কাছে ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমাদের কী করা উচিত?  এদিকে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলছে, শেষপর্যন্ত এ ব্যাপারে শরিফের বাড়িতে আমরা উত্তর পেলাম, কিন্তু যখন তিনি আবার প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করলেন  তখন তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।”

তিনি বলেন, “পরের দিন আধা সামরিক বাহিনী সেখানে গিয়ে ওই ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করে দেয় কারণ এটা বোঝা যাচ্ছিল যে ওই ভিড়ের মন্দিরের ছাদ ভাঙারও পরিকল্পনা রয়েছে।”