এরশাদকে রংপুরে দাফন করতে কবর খুঁড়ছেন নেতাকর্মীরা!

সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনা তত্ত্বাবধানে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে রবিবারই।

তবে এতে বেঁকে বসেছেন জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরের নেতাকর্মীরা। তাদের চাওয়া- অসিয়ত অনুযায়ী এরশাদকে নিজ জেলা রংপুরে দাফন করা হোক। এজন্য তারা সেখানে কবরও খুঁড়তে শুরু করেছেন।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, রংপুরের দর্শনা মোড়ের রাস্তার পাশেই অবস্থিত সাবেক রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসে তাকে সমাহিত করতে কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা।

দুপুরে রংপুর সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার নেতৃবৃন্দের জরুরি সভা শেষে এই কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগরের সভাপতি সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নিজে উপস্থিত থেকে কবর খোঁড়ার কাজ তদারকি করছেন।

এর আগে তিনি বলেন, “এরশাদ স্যারকে জাতীয় নেতার মর্যাদা দিয়ে সমাহিত করা হলে আমরা মানতাম। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। স্যারের মরদেহ ও দাফন নিয়ে কাউকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।”

রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আপনি জনগণের আকুতি বোঝেন। জনগণের চাওয়া-পাওয়া কী তা বোঝেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলে দিন, আমাদের সন্তানকে রংপুরের মাটিতে সমাহিত করার জন্য।”

এর আগে দলীয় কার্যালয়ে শোকসভায় মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, “রংপুরে জানাজা শেষে যদি লাশ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে রংপুরের নেতাকর্মীরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও সে চেষ্টা প্রতিহত করবে।”

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে এরশাদের মরদেহ রংপুরে নেওয়া হবে। সেখানে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অথবা ঈদগাহ মাঠে বাদ জোহর তার চতুর্থ জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকায় আনা হবে।

এরপর বিকেলে ঢাকায় বনানী সামরিক কবরস্থানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানের দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

এদিকে, দাফন নিয়ে দলের মধ্য সৃষ্ট বিভাজনে শেষ পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার মরদেহ রংপুরে পাঠানো হবে কিনা এনিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। প্রায় আট মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন এরশাদ। গত ১০ দিন ধরে সিএমএইচে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এরশাদ।