ফাইনালে ইংল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। ট্রেন্ট বোল্টের বল ডিপ মিডউইকেটে মেরেই ২ রানের জন্য ছোটেন বেন স্টোকস। ওদিকে মার্টিন গাপটিল বল তুলে সরাসরি থ্রো করেন ব্যাটিং প্রান্তে। ততক্ষণে ১ রান নিয়ে ফিরে এসে প্রায় পপিং ক্রিজের সামনে স্টোকস। হয়তো মনে পড়ছিল ধোনিকে রান আউট করার কথা। রান আউট থেকে বাঁচতে তাই ডাইভ দেন স্টোকস। গাপটিলের ছুড়ে দেওয়া বল সরাসরি আঘাত করে তার ব্যাটে। ৯০ ডিগ্রি বাঁক নিয়ে বল চলে যায় বাউন্ডারির বাইরে। দৌড়ে ২ ও ব্যাটে লেগে ৪Ñ মোট ৬ রান ঘোষণা করেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। কিন্তু বিতর্ক উঠেছে সেখানে ৬ না ৫ রান দেওয়া উচিত ছিল?
ফাইনালের পরদিন ব্যাপারটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইসিসির সাবেক আম্পায়ার সাইমন টোফেল। তার মতে, সেখানে ৫ রান দেওয়া উচিত ছিল। মাঠের আম্পায়ার ব্যাপারটি বুঝতে ভুল করেছেন বলে জানান এই অস্ট্রেলিয়ান। ২০১৫ সালে আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেন এই অস্ট্রেলিয়ান। এরপর থেকে এমসিসির ক্রিকেট আইন প্রণয়নকারী সাব-কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। ফাইনালে স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারির মতো ঘটনায় কী নিয়ম তা জানালেন এই সাবেক আম্পায়ার। ‘এটা স্পষ্ট ভুল, বোঝার ভুল। ইংল্যান্ডকে ৬ নয়, ৫ রান দেওয়া উচিত ছিল। ক্রিকেটের ওভারথ্রো অথবা ফিল্ডারের ইচ্ছাকৃত বাউন্ডারির ব্যাপারে যে নিয়ম সেই ১৯.৮ ধারা বলছেÑ কোনো ফিল্ডারের থ্রো থেকে আসা বল যদি কোনো ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লেগে সীমানা পার হয় তবে ব্যাটসম্যানরা রান পূর্ণ করেছে কি না সেটা দেখতে হবে। রান পূর্ণ হলে রাউন্ডারিসহ ওই রান যোগ হবে। আর ব্যাটে লাগার মুহূর্তে রান পূর্ণ না হলে দৌড়ে নেওয়া সেই রান বাউন্ডারির সঙ্গে যোগ হবে না।’
দৌড়ে রান পূর্ণ করতে হলে ব্যাটসম্যানকে পপিং ক্রিজের ভেতর ঢুকতে হয়। ম্যাচের ওই মুহূর্তের ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল দ্বিতীয় রান পূর্ণ করতে পারেননি স্টোকস। তার পপিং ক্রিজে ঢোকার আগেই বল ব্যাটে লেগে সিøপ এরিয়া দিয়ে সীমানা পার হয়। তাই নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় রানটি হয়নি। স্টোকস ও রশিদের ২ রানের মধ্যে হয়েছে ১ রান। ওই ঘটনার আগে ৩ বলে ৯ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। ৬ রান যোগ হওয়ার পর দুই বলে দরকার ছিল ৩। আর নিউজিল্যান্ডের জন্য বিষয়টি আরও কঠিন করে তোলে রান পূর্ণ না হওয়ার পরও স্টোকসের স্ট্রাইকে থাকা। অথচ ১৯.৮-এর নিয়ম অনুযায়ী ইংল্যান্ড ১ রান কম পায় ও রশিদের স্ট্রাইক প্রান্তে থাকার কথা। সেক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের জয়ের সুযোগটাও বাড়ত।
এদিকে এ ঘটনার জন্য বেশ লজ্জিত স্টোকস। ঘটনার পর হাত ওপরে তুলে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের প্রতি ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে বসেছিলেন স্টোকস। ম্যাচের পরও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের কাছে ক্ষমা চাইছিলেন। পরে নিউজিল্যান্ড সমর্থকদের কাছেও অনিচ্ছাকৃত ঘটা কা-ের জন্য ক্ষমা চান। স্টোকস জন্মগতভাবে কিউই, কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে নিউজিল্যান্ডের হৃদয় ভেঙেছেন ব্যাট হাতে। এ নিয়ে দুঃখ নেই তার মনে। খেলায় যে জার্সিতে খেলছেন তাকে জেতানোর জন্যই তো মাঠে নামা। স্টোকসের দুঃখটা ওই মুহূর্তের জন্য। ফাইনালের দিকপথ বদলে দেওয়া সেই ঘটনার জন্য মাটিতে মিশে যেতে চাইছেন স্টোকস, ‘আমি উইলিয়ামসনকে বলেছি, এই ঘটনায় পুরো জীবনের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। তোমরা ভালোভাবেই ম্যাচে ছিলে। বাজে সময়ে আমার ব্যাটটা সামনে চলে এসেছিল। আমি সত্যিই খুব লজ্জিত।’