তিন শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘ফার ইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. এর চেয়ারম্যান এবং মালিক পলাতক শামীম কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। ২৮ টি মামলার আসামি শামীম কবির চার বছর ধরে পলাতক ছিলেন।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এ তথ্য জানিয়েছে। সিআইডির অর্গানাইজড্ ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম(বার) এর তত্ত্বাবধানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে গত ৯ জুলাই সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, শামীম নিকট আত্মীয় সহ স্থানীয় কিছু যুবকদের নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাট বাজারে একটি অফিস খুলে ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর কার্যক্রম শুরু করে। সে ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করে ধর্মভীরু ও স্বল্প শিক্ষিত লোকজনদেরকে টাকা বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করত। পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করে নিজেকে ধর্মের বরপুত্র হিসেবে দাবি করে, বিনিয়োগকৃত প্রতি ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকায় প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা, কোন কোন ক্ষেত্রে ২,৫০০ টাকা হারে মুনাফা দেওয়ার কথা বলে, লিফলেট প্রচার করে এবং পত্র পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে অধিক সংখ্যক গ্রাহক সংগ্রহ করত। শুরুর কয়েক বৎসর ওয়াদা অনুযায়ী মুনাফা দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করে। কয়েক বছর লাভজনক মুনাফা পেয়ে সাধারণ মানুষ নিজের বহু কষ্টে অর্জিত টাকা ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ (FICL) এ জমা রাখত। বেশি মুনাফার আশায় কেউ কেউ অন্য জায়গা থেকে টাকা পয়সা ধার করে এনে, জমি জমা বিক্রি করে সমিতিতে টাকা রাখত। কোন কোন সরকারি বেসরকারি কর্মচারী পেনশনের টাকা বাসায় না নিয়ে জমাকৃত টাকা দ্বিগুণ তিন গুন করার জন্য ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ (FICL) এ জমা রাখে। বিভিন্ন রকম ছলচাতুরী প্রয়োগ করে উক্ত আসামি ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় ২৫ টি অফিস খুলে আমানত সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রাখে।
সিআইডি জানয়, আসামি শামীম কবিরসহ মামলার অপর আসামিদের সহায়তায় প্রায় ২০,০০০ গ্রাহকদের তিন শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে, ২০১৩-১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়ে সে কৌশলে আত্মগোপন করে এবং প্রচার করতে থাকে যে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে।