মিন্নিকে ১৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫ দিন রিমান্ড কেন: মহিউদ্দিন আহমেদ

মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মহিউদ্দিন আহমেদ বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলা নিয়ে 
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। 

তিনি বলেছেন, বরগুনায় এ মামলার ন্যায়বিচার সম্ভব নয়। এর জন্য মহিউদ্দন আহমেদ বরগুনার ওই আসনের বর্তমান এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দায়ী করেন। 

মহিউদ্দিন আহমেদ নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের সমালোচনা করেন। 

তিনি বরগুনার এসপি মারুফ হোসেনের প্রত্যাহার ও এমপি শম্ভূ দেবনাথের ছেলে সুনাম দেবনাথের রিমান্ড দাবি করেন।

তার স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো-

'মরহুম গাজী শামসুর রহমানের কথা গত দু'দিন খুব মনে পডছে। দারুন স্নেহ করতেন আমাকে। আমরা থাকতামও কাছাকাছি, তিনি মোহাম্মদপুররের গজনবী রোডে, আমি শেরে বাংলা নগরের মিনিস্টারস হোস্টেলে। তিনি কোন নোটীস না দিয়ে হঠাৎ আমার বাসায় আসতেন, আমিও তাঁর বাসায়। ৮০এর দশকে বিটিভিতে প্রচারিত তাঁর "আইন আদালত" অনুষ্ঠানটি দারুন জনপ্রিয় ছিল। তিনিই একমাত্র পন্ডিত ব্যক্তি যিনি বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটুটের সভাপতি ছিলেন ভিন্ন ভিন্ন সময়।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের তিনি আইন পড়াতেন। এমন এক আইনের ক্লাসের উল্লেখ করে গাজী সাহেব এক আলোচনায় আমাকে একদিন বলেছিলেন, তিনি এই হবু ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি কোর্সে বলতেন, তোমরা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে পারতপক্ষে কোন মহিলাকে কখনও রিমান্ডে দেবে না। সে যদি তরুনী হয়ে থাকে, কখনওই নয়। কারন তাকে abuse করার সমূহ রিস্ক, বাস্তবসম্মত আশংকা।

বরগুনায় তিন্নিকে গতকাল রিমান্ডে দেয়ার পর গাজী সাহেবকে খুব মনে পড়ছে। তিন্নিকে রিমান্ডে দেয়া হল, যখন তার পক্ষে একজনও আইনজীবী দাড়াল না। রিমান্ডে দেয়া হল, তাও আবার পাঁচ দিনের !! আগের দিন যে মিন্নিকে ১৩ ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ করা হল, তারপরও পাঁচ দিন !! আচ্ছা, তাকে কি জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেত না ; যেমন ঢাকার এক কোর্টের এক বিচারক সিদ্বান্ত দিয়েছেন, ডি আই জি মিজানের ক্ষেত্রে, মাত্র কয়েকদিন আগে ? আমি খুব বিচলিত বোধ করছি, বরগুনার মত এত ছোট একটি জেলা শহরে কি একজন তরুনীকে রিমান্ডে রাখার জন্য ব্যাবস্থা আছে ? আমার আর একটি বড় আশংকা, মিন্নিকে আবার এস পি মারুফ হোসেনের ফোর্স ক্রসফায়ারে ফেলবেনা তো !! আগে ভাবতাম, মহিলারা ক্রস্ফায়ারের ফেলা হয় না। কিন্ত আজকের খবরে দেখছি, এক "মাদক ব্যাবসায়ী" মহিলাকে হত্যা করা হয়েছে, তথাকথিত আভ্যন্তরীন কোন্দলে। 

বরগুনার এস পি মারুফ হোসেনের উপর আমার কোনই আস্থা নেই। এই লোকের আমলেই তো বরগুনার সেই "০০৭ বন্ড গ্রুপ"এর বিস্তার এবং প্রসার। এদের ধরার এবং আইনের হাতে তুলে দেয়ার জন্য এই এস পি বান্দা কি করেছেন ?

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমি মনে করি এই এস পি মারুফ হোসেনকে দ্রুত বরগুনা থেকে তুলে আনা দরকার। কারন বরগুনায় তার চরম ব্যার্থতার পর তার এখন প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে ওঠার আরও বেশী আশংকা।

আরও দরকার , এই মামলা বরগুনার বাইরে কোথাও নিয়ে যাওয়া। আমাদের আইনে এমন ব্যবস্থা আছে। বরগুনাতে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক এম পি দেলোয়ার হোসেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জাহাংগীরদের মত প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে ন্যায়বিচার বরগুনাতে সম্ভব নয়। সম্ভব নয় যে তা তো দেখাই যাচ্ছে।

আর, দ্রুত গেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়া দরকার ধীরেন্দ্র শম্ভুর সন্ত্রাসী ছেলে সুনাম দেবনাথকে। একে রিমান্ডে নিলে সে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারবে না। 

এই প্রসংগে উল্লেখ করতে হয় যে, দৈনিক "বাংলাদেশ প্রতিদিন"এ আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই তিন্নিকে রিমান্ডে নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রথম পৃষ্ঠায় বড় বড় দু'টি লেখা আছে। একটি লিখেছেন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। গত কয়েকদিন দিন বিবিসি বাংলা সকাল- সন্ধার দুই অধিবেশনেই এই খবরটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে।

বিবিসি বাংলা গতকাল সকালের অধিবেশনে প্রচার করেছে, বরগুনার সাংবাদিকরা প্রকৃত ঘটনা এবং তার বিভিন্ন দিক প্রচার করছেনা। বিবিসির বিপরীতে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোতে খুবই হাল্কা কভারেজ। এই প্রসংগে আবারও একই প্রশ্ন, আমাদের এতগুলো টিভি চ্যানেলের কামটা কি ? কেন আছে এতগুলো চ্যানেল।?'

মহিউদ্দিন আহমেদ মুক্তিযোদ্ধে তার অবদানের জন্য 'রাজশাহীর মহিউদ্দিন' নামে অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এছাড়াও তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন।