অস্বাভাবিকভাবে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক ভেঙে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ও টাঙ্গাইলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে ব্যবহৃত এই সড়কটির ৫০ মিটার অংশ ধসে গেছে। বন্যায় ১১১ গ্রামের অন্তত আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বৃহ¯পতিবার রাত ৮টার সময় ওই সড়কের ভূঞাপুর উপজেলার টেপিবাড়ি নামক স্থানে এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকাল থেকেই সড়ক মেরামতে কাজ করছে সেনাবাহিনী।
ভাঙন পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবীর বিন আনোয়ার এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারল মিজানুর রহমান শামীম বিপি।
ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ অভিযোগের সুরে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বাঁধ রক্ষায় কোনো উদ্যেগ না নেয়ায় গ্রামবাসী চেষ্টা করেও বাঁধটি রক্ষা করতে পারেনি।
টাঙ্গাইল অংশে যমুনার নদীর পানি ৮ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকার পর্যন্ত বিপদ সীমার ৯৯ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
এতে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, দেলদুয়ার উপজেলার প্রায় ১১১ গ্রামের অন্তত আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।
জেলার বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ৬৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে (মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৯টি এবং প্রায় ৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়) ও ১৯১২ হেক্টর ফসলি জমি এবং সবজি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনীসহ জেলা প্রশাসনের সবাই ভাঙনকবলিত সড়কে কাজ করে যাচ্ছে, আশা করছি বিকেলের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।