রাজধানীর শ্যামপুরের গেন্ডারিয়া এলাকায় হাত বদলের সময় ৬ টি বিদেশি পিস্তল, ১২৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজু গাজী, মিনহাজুল ও শওকত।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী জোনের উপ-কমিশনার ইব্রাহিম খান জানান, শুক্রবার সকাল পৌনে ৮ টার দিকে শ্যামপুর থানা-পুলিশের একটি মোবাইল টিম খবর পান গেন্ডারিয়া কাঁচাবাজার এলাকায় অস্ত্রের লেনদেন হবে। খবর পেয়ে মোবাইল টিম ও থানা-পুলিশের তদন্ত অফিসারের নেতৃত্বে আরও একটি টিম কাঁচাবাজারে অবস্থান নেয়। সকাল পৌনে ৯ টার দিকে তারা দূর থেকে অস্ত্রের হাতবদলকারীদের দেখতে পেয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় অস্ত্রের হাতবদলকারীদের কয়েকজন পালিয়ে গেলেও পুলিশ সদস্যরা জাপটে ধরে ফেলেন তিনজনকে।
ইব্রাহিম খান বলেন, শ্যামপুর থানার এএসআই মাসুম বিল্লাহ শওকত নামে একজনকে একটি ব্যাগসহ জাপটে ধরে ফেলে। ওই ব্যাগ থেকে ৫টি অস্ত্র পাওয়া যায়।
এছাড়া রাজু গাজী নামে আরেকজন একটি অস্ত্র নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন এস আই সোহাগ তাকে দৌড়ে ধরতে গেলে রাজু এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সৌভাগ্যক্রমে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বেঁচে গেলেও রাজু ধরা পড়ে। আরেকটি অস্ত্র পাওয়া মিনজাজুলের কাছ থেকে।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেকটি অস্ত্র লোডেড অবস্থায় ছিল। পরবর্তী সময়ে গুলি গণনা করে ১২৮ রাউন্ড পাওয়া যায়। অস্ত্রধারীদের ধরতে গিয়ে পুলিশের চারজন কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন- কনস্টেবল মাহবুব, এএসআই মাসুম বিল্লাহ, এস আই সোহাগ ও ওসি মিজানুর রহমান।
অস্ত্রের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে উপ-কমিশনার ইব্রাহিম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অস্ত্রের উৎস, গন্তব্য সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি। কী কারণে কারা এই অস্ত্র সংগ্রহ করছিল কিংবা কারা সরবরাহ করছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গেন্ডারিয়া কাঁচাবাজারে প্রকাশ্যে গোল হয়ে বসে তারা অস্ত্রের হাত বদল করছিল। এতো অস্ত্র একসাথে হাত বদলের উদ্দেশ্য – কোন সন্ত্রাসীর কাছে যেতে পারে, কেনা-বেঁচা হতে পারে কিংবা কোন অপরাধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অস্ত্রগুলি এনেছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, রাইড শেয়ারিংয়ে মোটর সাইকেল চালকের পরিচয় দিয়ে শওকত মিরপুর থেকে গেন্ডারিয়া গিয়েছিল বলে জানিয়েছে। তার পেছনে যে ব্যক্তি বসেছিল সেই যাত্রী ওই অস্ত্রের ব্যাগ বহন করেছিল। যদিও রাইড শেয়ারিংয়ের কোন বৈধ তথ্য দিতে পারেনি শওকত। মিনহাজুল নিজেকে খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্র হিসেবে দাবি করেছে। রাজু গাজীর বাড়ি চাঁদপুর ও শওকতের বাড়ি টাঙ্গাইলে বলে জানতে পেরেছেন।
অস্ত্রসহ যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ কর্মকাণ্ডের কোন তথ্য নেই। রাজনৈতিক কোন পরিচয়ও পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুন নাহার ও সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম।