বরগুনায় রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর দাবি করেছেন, নির্যাতন ও জোরজবরদস্তি করে তার মেয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। ওই সময় আদালত চত্বরে জড়ো হওয়া সাংবাদিকদের কাছে মোজাম্মেল হোসেন কিশোর এ দাবি করেন।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘নির্যাতন ও জোরজবরদস্তি করে আমার মেয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আর এর পেছনে হাত রয়েছে এমপি শম্ভু (বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) ও তার ছেলে সুনাম দেবনাথের (শম্ভুপুত্র জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ)।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশের মানুষ দেখেছেন আমার মেয়ে কীভাবে তার স্বামীকে রক্ষার জন্য সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াই করেছে। একটি প্রভাবশালী মহল আমার মেয়েকে ফাঁসিয়ে খুনিদের আড়াল করতে চাইছে। এসবই শম্ভু বাবু ও তার ছেলে সুনাম দেবনাথের খেলা।’
মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের অভিযোগের ব্যাপারে মন্তব্য নেওয়ার জন্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ছেলে সুনাম দেবনাথ বলেন, ‘মিন্নির বাবা কী বলছে, আমি সেটা জানি না। তবে এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও অমূলক। এ বিষয়ে আমি কিংবা আমার পরিবারকে পেঁচিয়ে মন্তব্য করা মূর্খ লোকের কাজ। তবে আমার যেটা মনে হচ্ছে, আমাদের বিরোধী চক্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’
মিন্নির পক্ষে আইনজীবী না দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আপনাদের জড়ানো প্রসঙ্গে বক্তব্য কী, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনও আইনজীবী যদি এ ধরনের কথা বলতে পারেন, তাহলে আমি বরগুনা ছেড়ে চলে যাবো। যদি তার (মিন্নি) আইনি সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমিও একজন আইনজীবী, আমিও তাকে আইনি সহায়তা দেবো।’
২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।