বসুন্ধরা কিংসের জন্য আজই হয়ে যেতে পারে পরম আকাঙ্ক্ষিত দিন। যে দিনটির জন্য তাদের এত সাধনা, পরিশ্রম। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আজ পরিণত হতে পারে কিংসের উৎসবস্থলে। ২০ ম্যাচে যে দলটি ১৯টি ম্যাচ বলতে গেলে হেসেখেলেই জিতেছে, সেই দলটি প্রথম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে ঠিক একটি জয় দূরে। আজ শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে হারালেই তিন ম্যাচ হাতে থাকতে লক্ষ্যপূরণ হবে দলটির।
হারলেও ক্ষতি নেই। আজ আবাহনী বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে পয়েন্ট খোয়ালেই হয়ে যাবে ইতিহাস। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের পর তারা পাবে অভিষেকেই লিগ শিরোপার স্বাদ। ম্যাচটি সিলেটে শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
কিংসের লিগের পথচলাটা শুরু থেকেই ছিল দুর্দান্ত। শুরুর পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর দলটি নোয়াখালীতে গিয়ে পয়েন্ট খোয়ায় টিম বিজেএমসির সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সেই ড্রয়ের পর থেকেই দীপ্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দলটি। জিতেছে টানা ১৪ ম্যাচ। ২০ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট তাদের সংগ্রহে।
এক ম্যাচ বেশি খেলা আবাহনীর সংগ্রহ ৫১। আগের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সর্বনাশটা করেছে তাদের চিরশত্রু মোহামেডান। অবনমন অঞ্চলে ধুঁকতে থাকা মোহামেডানের কাছে গত মঙ্গলবার আকাশিরা হেরে বসে ৪-০ ব্যবধানে। শিরোপা লড়াইয়ে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর সর্বনাশে বসুন্ধরার শিবিরে বইতে শুরু করেছে স্বস্তির সুবাতাস।
সেই স্বস্তি ভর করে এখন দলটি রয়েছে সিলেটে। সেখানেই আজ শিরোপা উৎসবে মাততে চায় তারা। দলটিকে সফলভাবে এতটা পথ নিয়ে আসতে স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনের অবদান কম নয়। অভিজ্ঞ এই কোচ শিরোপার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চাইছেন না শিষ্যদের বাড়তি চাপে ফেলে দিতে, ‘এ ম্যাচের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। লক্ষ্য একটাই জয়ের ধারাটা অব্যাহত রাখা। শিরোপার কথা বললে হয়তো বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে খেলোয়াড়দের মধ্যে। সেটা না বলে আমি চাইছি দল তার সহজাত খেলাটাই খেলুক। যে গতিময় ফুটবল খেলে তারা এত দিন সাফল্য পেয়েছে, সেটাই তাদের খেলতে বলেছি।’
নীলফামারীতে প্রথম পর্বের দেখায় শেখ রাসেলকে কিংস হারিয়েছিল ১-০ গোলের ব্যবধানে। এবার রাসেলের মাঠে খেলতে হবে। রাসেল শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও চাইবে একটা সম্মানজনক অবস্থানে থেকে লিগ শেষ করতে। বিশেষ করে দলটির সামনে রয়েছে রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ। তাই তো ম্যাচটা সহজ হবে না মনে করেন কিংস কোচ ব্রুজন, ‘শেখ রাসেল ভালো দল। রক্ষণভাগ তাদের মূল শক্তি। তবে আমাদের আক্রমণভাগের ওপর পুরোপুরি আস্থা রয়েছে।’
২০ ম্যাচে ৫০ গোল করা কিংস শেষ ১৪ ম্যাচেই করেছে ৪০ গোল। দলের আক্রমণভাগ রয়েছে দারুণ ছন্দে। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস ভিনিসিয়াস এবং জাতীয় দলের তরুণ ফরোয়ার্ড মতিন মিয়ার মধ্যে চলছে দারুণ এক প্রতিযোগিতা। ভিনিসিয়াস করেছেন ১২ গোল। আর সর্বশেষ ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা মতিন করেছেন ১১ গোল। এ ছাড়া কোস্টারিকান প্লেমেকার দানিয়েল কলিনদ্রেস পেছন থেকে বলের জোগান দিতে বেশি ব্যস্ত থাকলেও এর মধ্যেই করে ফেলেছেন ৯ গোল। কিরগিজ ফরোয়ার্ড বখতিয়ার দুইশবেখভের পা থেকে এসেছে ৭ গোল। এই চতুষ্টয়ে ভর করে ছুটছে কিংসের জয়রথ। তারা এমনই স্বচ্ছন্দ যে, জাতীয় দলের নিয়মিত স্ট্রাইকার মাহবুবুর রহমান সুফিল এবং বর্ষীয়ান স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম সবুজ নিয়মিত খেলারই সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই তো দলের গোল পাওয়া নিয়ে মোটেই ভাবনায় নেই ব্রুজন, ‘গোল নিয়ে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। দল যেভাবে খেলে তাতে গোল বের হবেই, এটা আমার খেলোয়াড়রা বিশ্বাস করে।’
আজ কিংসের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটির জন্য তাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। বাফুফে সেদিনই তাদের হাতে তুলে দেবে শিরোপা।