প্রিয়া সাহার বক্তব্যে পিরোজপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ে ক্ষোভ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের পেছনে প্রিয়া সাহার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থ অর্জনের চেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নিজ বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুরের বিভিন্ন মহলের লোকজন এই অভিযোগ করে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

‘শারি’ নামে বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হলেন প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক।

প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস (৫৪) পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের মৃত নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের মেয়ে। তার শ্বশুর বাড়ি যশোর জেলায়। প্রিয় বালার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুদকের সদর দপ্তরে সহকারী উপপরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন। ধানমন্ডিতে সপরিবারে বসবাস করেন। তার দুই মেয়ে প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা ও ঐশ্বর্য লক্ষ্মী সাহা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে জানান, যে ঘটনাকে মিথ্যা ভাবে সাজিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করেছেন, তা মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে তিনি আসামি করে হয়রানি করছেন।

তারা জানান, চলতি মার্চ মাসের ৩ তারিখে উপজেলার চরবানিয়ারীতে প্রিয়া সাহার ভাই জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাসের একটি অব্যবহৃত ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।  প্রিয়া সাহা তার নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য তার ভাইয়ের জমি ও বলেশ্বর নদীর চর নিয়ে বিরোধের জের ধরে স্থানীয় কয়েক জন হিন্দু/মুসলমান সম্প্রদায়ের লোককে হয়রানি করে আসছেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দুই মেয়েকে গ্রিনকার্ড পাইয়ে দিতে ও নিজে ওই দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার আশাই প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এ সব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। তারা বলেন, স্থানীয় মুসলমান-হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে নষ্ট করার জন্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তিনি এ সব মিথ্যা কথা বলেছেন।

নাজিরপুর উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান চৌধুরী বলেন, এটি একটি শান্তি প্রিয় উপজেলা। এখানে কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে নাই।

নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার জানান, নাজিরপুরে কোন সংখ্যালঘু নির্যাতন বা গুমের ঘটনা নেই। প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ও উসকানিমূলক।

পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রিয়া সাহার অভিযোগ অসত্য, এ রকম কোন ঘটনা পিরোজপুর জেলার কোথাও ঘটেনি। পিরোজপুরের পুলিশ প্রশাসন সাম্প্রদায়িক যে কোন বিষয়ে সব সময়ই গুরুত্বের সাথে নিয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

বর্তমানে পিরোজপুরে অবস্থানরত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে কেউ ধর্মীয় বিবেচনায় নির্যাতনের শিকার হন না। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মুসলমান-হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নাজিরপুরের একটি হিন্দু বা অন্য কোন ধর্ম সম্প্রদায়ের লোক গুম বা নিখোঁজ হয়নি। প্রিয়া বালার বক্তব্য অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নষ্টের উসকানিমূলক অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।