অশ্লীল ছবি-ভিডিও ধারণ করে প্রতারণা: ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

একাধিক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য তৌহিদুর রহমান এহিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এহিয়া সিলেট নগরীর মাহমুদুর রহমানের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার চিছড়াওলি বুড়াইয়া বাজারে।

গত শুক্রবার নগরীর সুরমা মার্কেট থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

শনিবার রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া জানান, এহিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক তরুণী থানায় গুরুতর অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টির তদন্তে নামেন এএসআই ইসমাইল হোসেন। নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে ৫-৬ মাস আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় এহিয়ার। সুদর্শন এহিয়া অল্প সময়েই ওই মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মেয়ের নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার বাসায় যাতায়াতও শুরু করেন এহিয়া। গত ৯ জুলাই বিকেলে এহিয়া ওই তরুণীর বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এসময় গোপনে তা নিজের মোবাইলে ধারণ করে রাখেন এহিয়া। এরপর এহিয়া বিয়ের ব্যাপারে গড়িমসি করলে তরুণী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

কিন্তু এহিয়া তরুণীর মোবাইলে ফোন করে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে এবং আরো একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে তাকে সহযোগিতার করার জন্য তরুণীকে চাপ দেন। অন্যথায় নিজের মোবাইল ফোনে ধারণকৃত অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এরপর গত ১৭ জুলাই ওই তরুণী নগরীর একটি রেষ্টুরেন্টে এহিয়ার সঙ্গে দেখা করেন এবং এহিয়ার মোবাইল ফোনে নিজের অন্তরঙ্গ ভিডিও দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি ছবি ও ভিডিও ক্লিপটি মুছে ফেলার জন্য এহিয়াকে কাকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু এহিয়া উল্টো তাকে হুমকি দেন। এরপর তরুণী নিজের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে থানায় অভিযোগ দেন।

এদিকে এহিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের আরো একাধিক অভিযোগ আগেই পেয়েছিল পুলিশ। গত ২৮ জুন নগরীর মদিনা মার্কেটের এক তরুণী এহিয়ার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, এহিয়া তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ফোন করে তরুণীকে জানিয়েছে তার কাছে তরুণীর কিছু একান্ত ব্যক্তিগত ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। তার সঙ্গে দেখা না করলে এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

এহিয়ার বিরুদ্ধে একই রকম আরেকটি অভিযোগ করেন দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের আরেক তরুণী। পুলিশ এহিয়ার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে এসব অভিযোগের সত্যতা পায়।

এরপর অভিযোগকারী এক তরুণীর সহযোগিতায় এহিয়াকে গ্রেপ্তারের ফাঁদ পাতে পুলিশ। ওই তরুণী গত শুক্রবার এহিয়াকে জানান সুরমা মার্কেট এলাকায় তিনি তার সঙ্গে দেখা করবেন। সে অনুযায়ী এহিয়া একটি রেষ্টুরেন্টে গেলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

ওসি সেলিম মিয়া জানান, গ্রেপ্তারের পর এহিয়ার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একাধিক তরুণীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ ভিডিও পাওয়া গেছে। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ব্যবহার করে তরুণীদের সঙ্গে অশ্লীল যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।

ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এহিয়া তার প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। রিমান্ডে নিয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।