ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ২য় তলায় নিয়ে বহিরাগত ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিণ্ট মেকিং ডিসিপ্লিনের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পাপ্পু কুমারের বিরুদ্ধে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িক বহিষ্কার রাখা হয়েছে।
ওই ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নির্যাতন বিরোধী কমিটি পাপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে আণিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত কমিটি ২৮ জুলাই চুড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর গত ১৫ জুলাই পাপ্পু বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার মুখে কালি লাগিয়ে ও গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।
অভিযোগ আছে গত ৩ জুলাই খুবির চারুকলা অনুষদে অনুষ্ঠিত চিত্রকলা প্রদর্শনী দেখানোর নাম করে পাপ্পু ওই ছাত্রীকে ডেকে আনে। চারুকলায় যাওয়ার পর তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ভবনের ২য় তলার লাইব্রেরিতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ছাত্রীর।
গ্রন্থাগারের সিঁড়িতে কান্নাকাটি করার সময় রাত আড়াইটার দিকে দারোয়ান মেয়েটিকে দেখতে পেলে তিনি পাপ্পুকে ডাকার ব্যবস্থা করেন। পরে ওই ছাত্রীর পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক বরাবর পাপ্পুর শাস্তি দাবি করে আবেদন করে।
খুবির ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মো. শরীফ হাসান জানান, এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নির্যাতনবিরোধী কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করেছে। খুব শিগগিরই পাপ্পুর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ রয়েছে পাপ্পু ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। ভুক্তভোগীকে থেকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে মামলা না করার জন্য ওই ছাত্রীর পরিবার বলেন ঘটনার পর থেকে মামলা না করার জন্য রাজনৈতিক মহল থেকে বিভিন্নভাবে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত পাপ্পু বঙ্গবন্ধু পাঠক ফোরামের খুবি শাখার সভাপতি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অন্যান্য সংগঠনকে অনুমোদন দিতে তাদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষনে রাখা হলেও বঙ্গবন্ধু পাঠক ফোরামকে অনুমোদনের ক্ষেত্রে এসব নীতিমালা মানা হয়নি।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে পাপ্পুর সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।