নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে অবৈধ রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, হচ্ছে প্রাণহানি। গেট ও গেটম্যানবিহীন এসব রেলক্রসিং বাড়িয়ে দিয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে গেট ও গেটম্যান ছাড়া চলছে ১ হাজার ৯৪টি লেভেল ক্রসিং। এলজিইডি, সড়ক ও জনপথসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে নতুন নতুন ক্রসিং তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এসব ক্রসিং তৈরির জন্য তারা রেলওয়ের অনুমোদন নিচ্ছে না, আবার সেসব ক্রসিং থেকে যাচ্ছে অরক্ষিত অবস্থায়। পরবর্তী সময়ে গেটবিহীন ক্রসিংগুলোতে নিজ দায়িত্বে পারাপার হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেছে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১৫৬৮ কিলোমিটার রেলপথে ১ হাজার ৪১৩টি ক্রসিং রয়েছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অনুমোদিত লেভেল ক্রসিং রয়েছে ১ হাজার ৩৪টি। এর মধ্যে মাত্র ৩১৯টিতে গেটম্যান রয়েছেন। বাকি ৭১৫টি গেট অরক্ষিত রয়েছে। এসব লেভেল ক্রসিং পারাপার হতে হয় নিজ দায়িত্বে। এর বাইরে রেলের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ক্রসিং রয়েছে ৩৭৯টি। এসব ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেট বা গেটম্যান। এগুলোতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ট্রেনে কাটা পড়ার যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে তার বেশিরভাগই ক্রসিংয়ে।
এদিকে মাঝেমধ্যে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দেশজুড়ে আলোচনা হলেও প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কোনো খোঁজই রাখে না কেউ। রাজশাহী রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদ ইকবাল জানান, রাজশাহীর হরিয়ান থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত লাইনে ১ জানুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত নয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছে ৯ জন।
গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ ১১ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অরক্ষিত রেলক্রসিং নিয়ে বেশ আলোচনা হলেও সেই আলোচনা এখন থেমে গেছে।
রেল কর্র্তৃপক্ষ বলছে, রেললাইনের পাশে নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণের কারণে অবৈধ ক্রসিংয়ের সংখ্যা বাড়ছে। মূলত এলজিইডি, সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এসব রাস্তা নির্মাণ করে থাকে। রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে হলে রেলওয়ের অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেই অনুমোদনের তোয়াক্কা করে না। এ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেও তারা কোনো ফল পাচ্ছে না বলে দাবি করছে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহীদুল ইসলাম বলেন, রেললাইনে দুর্ঘটনার মূল কারণ অবৈধ রেলক্রসিং। আর অবৈধ রেলক্রসিংগুলো তৈরি করছে বিভিন্ন সংস্থা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা। রেললাইনের ওপর রাস্তা নির্মাণ করার কোনো ধরনের অনুমোদন না নিয়েই ক্রসিং করা দুর্ঘটনা বাড়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।