এসএ গেমসকে সামনে রেখে ক্রীড়াঙ্গনে নড়াচড়া

২০১৬ সালে ভারতের গৌহাটি ও শিলংয়ে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ান সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর এসএ গেমস। সে সময়ই ঠিক হয়েছিল এ বছর মার্চে গেমসের ১৩তম আসর হবে নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখারায়। এ বছর শুরুতে নতুন করে ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর আসরটি আয়োজনের কথা বললেও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসছিল না। গত ১৩ মে অন্য দেশগুলোকে অন্ধকারে রেখেই নেপালের ক্রীড়ামন্ত্রী আসরের লোগো ও মাসকট উন্মোচন করেন। সেটা জেনেই নড়াচড়া শুরু হয়ে গেছে ক্রীড়াঙ্গনে। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে গত ১৫ জুলাই থেকে শুরু করেছে প্রস্তুতি। লক্ষ্য একটাই আসরের অর্জিত সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়া।

গত আসরে বাংলাদেশ জিতেছিল ৭৫টি পদক। এর মধ্যে স্বর্ণপদক সংখ্যা মাত্র ৪। এছাড়া ১৫টি রৌপ্য এবং ৫৬টি ব্রোঞ্জপদক জিতে বাংলাদেশ হয়েছিল পঞ্চম। গেলবার সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা দেশকে দুটি স্বর্ণপদক উপহার দেন। এছাড়া ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এবং পিস্তল শুটার শাকিল আহমেদ খান জিতেছেন একটি করে স্বর্ণপদক। এবার অবশ্য অলিম্পিক কর্তারা আশা করছেন, ২০১৬-এর প্রাপ্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। গতকাল সে কথাই বলেছেন বিওএ মহাসচিব শাহেদ রেজা। আশাবাদী হয়ে উঠেছেন আফগানিস্তান এবারের আসরে না থাকায়।

‘আফগানিস্তান না থাকায় মার্শাল আর্ট ইভেন্টগুলো নিয়ে আমরা আশাবাদী। এছাড়া ফুটবল, ক্রিকেট, আর্চারি, শুটিংয়ে ভালো সম্ভাবনা দেখছি’Ñ শাহেদ রেজা বলেন। এবারের আসরে মোট ২৭টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশ নেবে ২৫টিতে। প্যারাগ্লাইডিং এবং ট্রায়াথলনে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ।

এর মধ্যে কেবল ক্রিকেট ও ফুটবল বাদে বাকি ডিসিপ্লিনগুলো এসএ গেমসের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ৩৫৫ জন ছেলে এবং ৩১১ জন মেয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ এ আসরের জন্য। বিওএ’র ট্রেনিং কমিটির সদস্য সচিব এ কে সরকার বলেন, ‘এক মাস অনুশীলনের পর ২৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে কতগুলো ইভেন্টে আমরা অংশ নেব সেটা ফেডারেশনগুলো জানাবে। যেসব ইভেন্টে সম্ভাবনা আছে, সেগুলোতেই শুধু আমরা অংশ নেব। ইভেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে গত এসএ গেমসের ফলাফল বিবেচনায় আনা হবে।’

শাহেদ রেজা জানান, বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট হবে বড়। এর পেছনে তার যুক্তি, ‘অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসরগুলোতে যেহেতু কাটছাট করে, সম্ভাবনাময় খেলাগুলোতেই ক্রীড়াবিদ পাঠানো হয়, তাই এসএ গেমসের বহরে আমরা সবাইকে সুযোগ দিতে চাই।’ বিওএ ফেডারেশনগুলোর কাছে বিদেশি কোচ আনার ব্যাপারে জানতে চেয়েছে। কিছু কিছু ইভেন্ট যেমন ফুটবল, ক্রিকেট এবং কাবাডিতে বিদেশি কোচ আছে। বাকিগুলোতে বিদেশি কোচ চাইলে বিওএ চেষ্টা করবে অর্থায়ন করার। এর মধ্যেই সরকারের কাছে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা এসএ গেমসের প্রশিক্ষণ বাবদ চেয়েছে বিওএ। সরকারের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা পাওয়ার একটা আশ্বাসও পাওয়া গেছে। তাছাড়া আগের তারিখ ধরে কিছু কিছু ফেডারেশনে অনুশীলন শুরু করার জন্য আগেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিওএকে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। সেই টাকা দিয়েই এখন পুরোদমে চলছে সবকটি ডিসিপ্লিনের প্রস্তুতি।