বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু (৪০) হত্যার ঘটনায় হামলাকারী আরও ১০ থেকে ১২ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
ঘটনার সময় মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাড্ডা থানা-পুলিশ।
তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত কিনা বা ওই বিদ্যালয়ের কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর গত রবিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের প্রত্যেককে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রিমান্ডের আসামিরা হলো−বাচ্চু মিয়া (২৮), মো. বাপ্পী (২১) ও শাহিন (৩১)। এদিকে জাফর নামে অপর এক আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার সময়কার কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব দিকে লক্ষ রেখেই তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষেই বোঝা যাবে।’
গত শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেনুর ছোট মেয়ে তোবাকে ভর্তি করার খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের সামনেই ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪০)। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন রেনুর ভাগনে নাসির উদ্দিন টিটু।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাবে বলে খোঁজ নিতে বাড্ডার ওই স্কুলে গিয়েছিলেন রেনু এবং সেখানে গণপিটুনির শিকার হন। এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান রেনুর স্বজনেরা।
এদিকে রেনুর ওপর হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনরোষের সৃষ্টি হয়। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। ভিডিওটি সংগ্রহ করে তদন্তে নাম বাড্ডা থানা পুলিশ। গত রবিবার রাতেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে তারা। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের প্রত্যেককে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের খুঁজে বের করতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামিদের আদালতে হাজির করেন। পরে আসামিপক্ষে আইনজীবী হারুন রশিদসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।
এরপর শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জাফর নামে অপর এক আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রেনুর ভাগনে নাসির উদ্দিন টিটু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রেনু খালার ওপর এমন বর্বর হামলা মানা যায় না। আমরা হামলাকারীদের এমন শাস্তি চায় যাতে ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। অন্ধকারে থাকা মানুষগুলো যেন মানবতার দিকে ফিরে আসে।’
প্রসঙ্গত, রাজধানীর মহাখালীর ৩৩/৩ জিপি ওয়ারলেস গেটের একটি ভাড়া বাসায় চার বছরের মেয়ে তোবাকে নিয়ে বসবাস করতেন রেনু। তার স্বামী তসলিম হোসেনের (৪৫) সঙ্গে দুই বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। বড় ছেলে তাহসিন আল মাহিব (১১) প্রথম দিকে মায়ের সঙ্গে থাকলেও এক বছর আগে লক্ষ্মীপুরে বাবার কাছে চলে যায়। ছোট মেয়ে তোবাকে নিয়েই ছিল তার সব স্বপ্ন।