এত কিছুর পরও বয়স্কভাতার কার্ড পাননি অন্ধ কাঞ্চিয়া

দু’চোখ অন্ধ! বয়স হয়েছে ৭০ বছর। নিজের থাকার মতো কোন জমি জায়গাও নেই। থাকেন অন্যের জমিতে সামান্য একটু ঘরে! গত তিন বছর ধরে চেয়ারম্যান মেম্বরদের হাত-পা ধরেও মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড! রাগে ক্ষোভে ছিঁড়ে ফেলেছেন নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রটিও!

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাই প্রফেসর পাড়ার শ্রী কাঞ্চিয়া চন্দ্র রায় (৭০) বয়স্ক ভাতার জন্য ছুটছেন কয়েক বছর ধরেই। একটা বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজার রহমানের কাছেও গিয়েছেন! কিন্তু জীবনের শেষ বয়সে এসেও মেলেনি একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড।

কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে কাঞ্চিয়া চন্দ্র বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে মন্ত্রী, ইউএনও, চেয়ারম্যান, মেম্বরদের হাতে পায়ে ধরেও আমার বয়স্ক ভাতার কার্ড পাইনি।

তিনি অভিযোগ করেন, আলাদিপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নকুল চন্দ্র রায় বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য ৪ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। বছরের পর বছর ঘুরেও যখন কাজ হচ্ছিল না তখন কষ্ট করে ৫০০ টাকা জোগাড় করে নকুল মেম্বরকে দিয়েছি। তাতেও কাজ হয়নি। বাকি সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিতে পারিনি বিধায় সেই ৫০০ টাকা কিছুদিন পর ফেরতও দিয়েছেন নকুল মেম্বর! এই রাগে, ক্ষোভে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র ছিঁড়ে ফেলেছি!

কাঞ্চিয়া চন্দ্র রায়ের এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। জন্মগতভাবে ঠোঁট কাটা রোগে আক্রান্ত ছেলে বিদেশু চন্দ্র রায়েরও (৩৫) দু’টি সন্তান। একটি ছেলে একটি মেয়ে। বিদেশুর ছেলে ও কাঞ্চিয়া নাতি মিঠুন চন্দ্রও (১২) ঠোঁট কাটা রোগে আক্রান্ত। বিদেশু চন্দ্র কোনোভাবে ভ্যান চালিয়ে, কুলির কাজ করে সংসার চালায়।

কাঞ্চিয়া রায়ের স্ত্রী শ্রীমতি মালতী রায়ও (৬০) বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। মালতী রায় বলেন, ‘সামান্য যে জায়গাতে বাড়ি করে আছি সেই জায়গাটাও আমাদের না। আজকেই যদি জমির মালিক বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাহলে আমাদের খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না! আমার স্বামী, সন্তান, নাতি তিনজনই প্রতিবন্ধী। বহুদিন ধরে চেয়ারম্যান মেম্বরদের হাত পা ধরেও একটা বয়স্ক ভাতা কিংবা প্রতিবন্ধীর কার্ড পাইনি। নকুল মেম্বর ৪ হাজার টাকা চেয়েছিলেন, দিতে পারিনি বিধায় কার্ডও হয়নি। আমরা নিজেরাই খেতে পারি না আর কিভাবে টাকা দেব!

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য নকুল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি টাকা চাইনি। তবে তারা খুশি হয়েই টাকা দিতে চেয়েছে। আমাকে কাঞ্চিয়া ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু আমি কিছুদিন পর টাকা ফেরত দিয়ে দিই।

আলাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফফর সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাঞ্চিয়াকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দিতে ইতিমধ্যে সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। দু’একদিনের মধ্যেই কার্ড করে দেওয়া হবে। এত দিন কি কারণে হয়নি বিষয়টি আমি জানি না। ইউপি সদস্যের টাকা নেওয়ার অভিযোগের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমিও শুনলাম এ রকম। টাকা নিয়ে কাউকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া অপরাধ’।