বাড্ডায় নারীকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেপ্তার

ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে ঢাকার বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনু নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা নামক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-পূর্ব) ইলিয়াস শরীফ রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও হত্যাকারী অন্য আসামিদের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে বিকেলে হৃদয় সন্দেহে শাহবাগ থানা পুলিশ গুলিস্তান এলাকা থেকে এক যুবককে আটক করে বাড্ডা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে সন্দেহভাজন সেই যুবককে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই সকালে ঢাকার উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে লোকজন জড়ো হয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

গত শনিবার সকালে ওই স্কুলেই পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪২)।

ওই ঘটনার ভিডিওতে হৃদয়কে রড হাতে নির্দয়ভাবে মধ্যবয়সী ওই নারীকে পেটাতে দেখা গিয়েছিল। ওই মামলায় হৃদয়ের আগে গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে জাফর নামে একজন সোমবার বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া শাহীন (৩১), বাচ্চু মিয়া (২৮) ও বাপ্পী (২১) নামে তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেন।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও কামাল হোসেন (৪০)। গ্রেপ্তার সবাই উত্তর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা।