রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনে আসবাপপত্র কেনা ও তা ভবনে তোলা নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির প্রশংসা করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিকভাবে ধরাণা করেছিলাম যে এত বড় একটি দুর্নীতির নিউজ আসলো, আর আমিই এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। আমি আগেই বলেছি যে, সমালোচনা করার মতো ক্ষেত্র থাকলে তা তুলে ধরেন। সেটাই হতে পারে আমাদের পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি ভিত্তি। সেক্ষেত্রে দেশ রূপান্তর পত্রিকাকে সুনির্দিষ্টভাবে সেই রিপোর্টটি প্রকাশ করার জন্য আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে অন্য যেসব প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে জোরালে ভূমিকা রেখেছে তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।
১৬ মে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘কেনা-তোলায় এত ঝাঁজ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সেখানে বলা হয়, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বালিশ কেনা হয়েছে ৬৬৭৫ টাকা দিয়ে। আর এ বালিশ ভবনের বিভিন্ন তলায় উঠাতে খরচ করা হয়েছে ৭৪০ টাকা করে। একটি ফ্রিজ কেনা হয়েছে ৭২ হাজার টাকা দিয়ে। আর একটি ফ্রিজ ভবনে উঠাতে খরচ করা হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।
এ ছাড়া, একটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয় ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় যার প্রতিটি ভবনে তুলতে খরচ ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা, প্রতি ড্রেসিং টেবিলের মূল্য ধরা হয় ২১ হাজার ২১৫ যা ভবনে উঠাতে খরচ হয় ৮ হাজার ৯১০ টাকা।
এসব অনিয়মের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সারা দেশে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের থেকে উচ্চ পর্যায়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
একটি কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এম এইচ এম শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান নজরুল ইসলাম।
এ ছাড়া অন্য একটি কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ড. মইনুল ইসলামকে প্রধান করা হয়েছে। এ দুই কমিটিই বিস্তর পর্যালোচনা করে সরকারের এ অগ্রাধিকার প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য পান।