ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই মেয়রকে 'বিনা ভোটে' নির্বাচিত উল্লেখ করে তারা নাগরিকদের জীবন নিয়ে 'উপহাস' করছেন বলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেছেন।
দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।
ডেঙ্গুর মহামারি চললেও সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই অভিযোগ করে এ বিএনপি নেতা বলেন, ‘দেশে মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু। ডেঙ্গু রোগিতে সয়লাব হাসপাতাল। তিল ধারণের জায়গা নেই। ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, যা আগের রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের উত্তর ও দক্ষিণের বিনাভোটের মেয়র নাগরিকদের জীবন নিয়ে উপহাস করে নির্লজ্জের মতো বলে আসছেন, কিছুই হয়নি, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, মশা মারতে যে ওষুধ কেনা হয়েছে সেই ঔষধে কাজ হয় না। কারণ বাজেটের টাকা লুটপাট করে সস্তা দামে নকল ওষুধ কেনা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জনরোষের ভয়ে বলেছেন, ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে, প্রাণহানি ঘটছে। যে ঔষধ আনা হয়েছে তা অকার্যকর।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি দলের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাচ্ছি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ঈদুল আজহার আগেই মুক্তি দিতে হবে। দেশের বিচার প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে অবমুক্ত হোক। প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের অবসান হোক। বেগম জিয়ার জামিনে আর কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না।’
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আইনমন্ত্রী এই ব্যর্থতা ঢাকতে গণপিটুনীর দায় চাপাচ্ছেন বিরোধী দলের ওপর। আইনমন্ত্রী এই উড়ো-অবান্তর ও উদ্ভট কথা বলছেন ভিন্ন কারণে, বোধহয় তার মন্ত্রীত্বের পদটি টলমল করছে, তাই প্রধানমন্ত্রীকে খুশী করে মন্ত্রীত্বের টালমাটাল পদটি ধরে রাখতেই বিরোধী দলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন, পীড়াদায়ক আবোল-তাবোল বকছেন।’
তিনি বলেন, ‘ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসে ডাকাতদের ভূমিকা পালন করছে সরকার। জনগণ বাঁচলো না মরলো তা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। একদিকে দেশে ডেঙ্গুর মহামারি অন্যদিকে ভয়াবহ বন্যায় পানিতে ভাসছে মানুষ, ত্রান নেই, সাহায্য নেই, পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা নেই, চারিদিকে শুধু হাহাকার ও দীর্ঘশ্বাস চলছে দেশজুড়ে।’