ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে ১১ সদস্যের সুপারিশ কমিটি গঠন করায় ৫ম দিনে এসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন আন্দোলনকারীরা।
তবে প্রশাসনের আশ্বাস পর্যবেক্ষণ এবং রোববার এ দাবির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দেবে আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র শাকিল মিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে অন্যান্য কর্মসূচি চলমান থাকবে। প্রশাসনের আশ্বাসকে পর্যবেক্ষণে রেখে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
এসময় রবিবার রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিল না করে বা কালক্ষেপণ করে, তাহলে আবার কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।
শাকিল মিয়া আরো বলেন, ‘সাত কলেজের অধিভুক্তি ছিল একটি অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। যে কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু প্রশাসন বারবার মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে।’
এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ, ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ, কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও সরকারি সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট), বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাঈনুল করিম।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কমিটিতে রয়েছেন। তাদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কলেজ অধিভুক্তির বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।