শিবিরকর্মী সন্দেহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। মারধরের শিকার নুরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
ছাত্রলীগ কর্মী ও পদার্থবিদ্যা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের রফিকুল ইসলাম শাওনের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
মারধরকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বগিভিত্তিক সংগঠন "সিএক্সটি নাইন" গ্রুপ ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
জানা যায়, দুপুরে ফটোকপি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ জালাল হলের সামনে যায় নুরুল ইসলাম। এসময় হলের নিচতলায় রফিকুল ইসলাম শাওনের নেতৃত্বে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। মারধরের সময় রড দিয়ে আঘাত করায় গুরুতর হয় হয় নুরুল ইসলাম। এ সময় তার কাছ থেকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মর্মে লিখিত বিবৃতি নিতে চায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। এতে সে অস্বীকৃতি জানায়।
পরে আহতাবস্থায় নুরুল ইসলামকে জিরো পয়েন্টে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাকে চবি মেডিকেল সেন্টারে পাঠায়।
ছাত্রলীগ কর্মীদের দাবি, নির্বাচনের সময় গোয়েন্দাদের তালিকায় শিবিরকর্মী হিসেবে নুরুল ইসলামের নাম ছিল। তার মোবাইলে শিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া যায়।
চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী জানান, তার (নুরুল ইসলামের) শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে রড দিয়ে আঘাত করেছে বলে জানায়। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাই বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, শিবিরের প্রমাণ থাকায় তাকে ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় প্রকাশিত শিবির নেতাকর্মীর তালিকার তার নাম ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রণব মিত্র জানান, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা পুলিশের কাছে ওই শিক্ষার্থীকে সোপর্দ করে। এসময় তারা কিছু প্রমাণও আমাকে দেখায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।