দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর ভারতীয় লোকসভায় বৃহস্পতিবার পাশ হলো মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অফ রাইটস অন ম্যারেজ) বিল ২০১৯ অর্থাৎ তিন তালাক বিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরও জানায়, সন্ত্রাসবাদ ও তিন তালাকের অপরাধকে এক করে দেখছে নরেন্দ্র মোদি।
লোকসভায় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি তিন তালাক বিলের পক্ষে বলেন, “সন্ত্রাসবাদ যেমন অপরাধ, তিন তালাকও অপরাধ। অপরাধ করলে জেলে যেতেই হবে।”
তবে সন্ত্রাসবাদ আর তাৎক্ষণিক তিন তালাককে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার বিপক্ষে রয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। কিন্তু সংখ্যাধিক্যের জোরে তৃতীয়বারের মতো বিলটি পাশ হয়েছে লোকসভায়। তবে রাজ্যসভায় এ নিয়ে ফের আপত্তি জানাবে বিরোধীরা।
তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ গণ্য করে তিন বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি বিজেপির শরিক দল জেডিইউ-ও লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেছে।
জেডিইউ সাংসদ রাজীব রঞ্জন বলেন, ‘‘তিন তালাকের মতো অপরাধ ঠেকাতে সামাজিক চেতনা বাড়ানো দরকার। গৃহবধূদের ওপর নির্যাতন, পণপ্রথার বিরুদ্ধে আইন করেও এ সব ঠেকানো যায়নি। বরং এর অপব্যবহার হচ্ছে। একইভাবে তিন তালাক আইনেরও অপব্যবহার হবে।’’
কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের প্রশ্ন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথায় লেখা রয়েছে , তাৎক্ষণিক তিন তালাক বা তালাক-এ-বিদ্দতকে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দিতে হবে? ২২টি মুসলিম রাষ্ট্রে তিন তালাক নিষিদ্ধ। কিন্তু কোথাও তাকে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দেওয়া হয়নি। একমাত্র বাংলাদেশে তা রয়েছে। কিন্তু সেখানেও মাত্র এক বছরের জেলের আদেশ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তিন তালাকের অপরাধ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন দিয়েই ঠেকানো যেত। হিন্দু, পার্সিদের ক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীকে ছেড়ে গেলেও এই রকম শাস্তির ব্যবস্থা নেই। সেখানে দু’বছর পরে স্ত্রী শুধু বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন। তা হলে শুধু মুসলিমদের ক্ষেত্রে এমন আইন কেন?”
এমআইএম সাংসদ আসাদ উদ্দিন ওয়েইসির প্রশ্ন, “স্বামী যদি তিন তালাকের অপরাধে জেলেই চলে যান, তা হলে তিনি খোরপোষ দেবেন কীভাবে? তত দিন স্ত্রীকে কেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে? কেন মুসলিমদের বিয়ের কাবিননামাতেই তিন তালাকের বিরুদ্ধে শর্ত লিখিয়ে নিতে বলা হচ্ছে না?”
এ দিকে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান, কেউ যদি ভুল করে, রাগের মাথায় তিন তালাক বলে ফেলেন, তা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আপস করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। কিন্তু অনড় থাকলে তাকে জেলে যেতে হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ম্যাজিস্ট্রেট ঠিক করবেন।
২০১৭ সালের ২২ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দেয়। এরপর মোদি সরকার তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ গণ্য করে ও তিন বছরের জেল চেয়ে বিল আনে। কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, মুসলিম পুরুষদের হীন বলে প্রতিপন্ন করতে মোদি সরকার তাৎক্ষণিক তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দিয়ে কারাবাসের ব্যবস্থা করছে।