উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নতুন দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবাজ নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘যুদ্ধবাজদের’ অস্ত্র আমদানি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথ মহড়া বন্ধে হুঁশিয়ারি হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে দাবি উত্তর কোরিয়ার।
দেশটি তাদের শীর্ষ নেতা কিম জং উনের উপস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের গত মাসের সাক্ষাতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরুর ইঙ্গিতের পর পিয়ংইয়ং এ প্রথম কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার পর কিম জং উন বলেন, ‘আমাদের দেশের নিরাপত্তায় দক্ষিণের যে সরাসরি ও সম্ভাব্য হুমকি বিদ্যমান তা উপড়ে ফেলতে ধারাবাহিক অত্যাধুনিক-শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা ছাড়া উপায় নেই।’ বৃহস্পতিবারের ওই পরীক্ষাকে কেবল দক্ষিণ কোরিয়ার জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
হ্যানয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর জুনে ডিমিলিটারাইজ জোনে ট্রাম্প-কিমের সাক্ষাৎ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে নতুন আশা জাগালেও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তাতে কালো ছায়া ফেলবে বলে ধারণা তাদের।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, বৃহস্পতিবার পিয়ংইয়ং যে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালিয়েছে তা নতুন ধরনের। একই মূল্যায়ন পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথবাহিনী কমান্ডের (সিএফসি) কাছ থেকেও।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ পর্যালোচনায় ওই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পিয়ংইয়ংয়ের আগের উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মতোই ৬০০ কিলোমিটারের মতো পথ পাড়ি দিয়েছে বলে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৪ মিনিট ও ৫টা ৫৭ মিনিটে এ দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জাপান সাগরের দিকে ছোড়া হয় বলে পরে জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস)।