কেউ গোপনে গুগল কিংবা অন্য কোনো ব্রাউজার থেকে পর্নোসাইটে প্রবেশ করলে তার খবর জেনে যাচ্ছে তৃতীয় পক্ষ। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সাইবার গবেষণায় বলা হয়েছে, ৯৩ শতাংশ পর্নোসাইট তাদের দর্শকের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে!
প্রযুক্তিবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট জিডিনেট জানিয়েছে, মাইক্রোসফট, কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার গবেষকরা ২২ হাজার ৪৮৪টি পর্নোসাইট বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় সব সাইট তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্রাহকের তথ্য ফাঁস করে।
সাইটগুলোর কাছ থেকে গুগল, ফেইসবুকের মতো প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীর তথ্য কিনছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গবেষণার জন্য অ্যালেক্সা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ সাইটগুলো বেছে নেওয়া হয়। যে সাইটগুলো তাদের টাইটেলে কিংবা মেটাডেটায় ‘পর্নো’ শব্দটি ব্যবহার করে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। সাইটগুলোর সোর্স কোড বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, সাইটমালিকরা ব্যবহারকারী তথ্য বিক্রি করছে।
মাইক্রোসফটের গবেষক এলিনা মারিস বলছেন, ‘আমরা এই গবেষণায় সফলতা পেয়েছি। ৩ হাজার ৮৫৬টি সাইট তাদের প্রাইভেসি পলিসিতে ব্যবহারকারীর ডেটা বিক্রির বিষয়টি রেখেছে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, তৃতীয় পক্ষের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে গুগল এবং এর মালিকানাধীন বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফরম ‘ডাবল ক্লিক’। যে পর্নোগ্রাফি সাইটগুলো যাচাই করা হয়েছে, তার মধ্যে ৭৪ শতাংশতে গুগলের ট্র্যাকার রয়েছে। আর ১০ শতাংশ সাইটে আছে ফেইসবুক ট্র্যাকার।
পর্নোসাইট শুধু আপনার প্রবেশের তথ্য বিক্রি করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না। গবেষণায় দেখা গেছে, ২৩০টি সাইট তাদের ব্যবহারকারীকে ট্র্যাক করছে।
শুধু পর্নোসাইট নয়, যেকোনো ওয়েবসাইটে ঢুকলে কুকিজ ওই ব্রাউজারে স্টোর হয়ে যায়। এগুলো হলো ছোট টেক্সট ফাইল। দুই ধরনের কুকিজ সাধারণত স্টোর হয়। ফার্স্ট পার্টি কুকিজ ওয়েবসাইটের অপারেটর থেকে এবং থার্ড পার্টি কুকিজ বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান অথবা অ্যানালেটিক্যাল ফার্ম থেকে আসে।
বিভিন্ন ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপে যখন ক্লিক করা হয়, তখন ওই কুকিজগুলোর মাধ্যমে ফোনের অনেক তথ্য কোম্পানিগুলোর হাতে চলে যায়। কোথায় যাচ্ছেন, কোনো ওয়েবসাইটে কত সময় থাকছেন, অনলাইনে পছন্দের বিষয় কীÑ সব তারা জেনে যায়। এগুলো বিশ্লেষণ করে, তারা মোবাইলে, ফেইসবুকে কিংবা ইন্সটাগ্রামে বিজ্ঞাপন পাঠায়। এসব থেকে বাঁচতে অ্যাড ব্লকিং ব্যবহার করা উচিত। তাহলে দর্শকের পর্নো অভ্যাস তৃতীয় পক্ষ জানতে পারবে না।
আর ট্র্যাকিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে ভিডিও দেখার পর সাইটের কুকিজ ডিলিট করে ফেলা উচিত। ওয়েবসাইটের ইউআরএলে একদম বাঁদিকে কিছু সাইটে ‘Not secure’ লেখা থাকে। এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। ওখানে ক্লিক করে কুকিজ ডিলিট করা যায়। কিছু সাইটে ‘https://’ লেখা থাকে। এগুলো মোটামুটি নিরাপদ। তবু সুরক্ষিত থাকতে ওখানে ক্লিক করেও কুকিজ ডিলিট করতে হবে।