সরকার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ধামাচাপা দিতে সরকারি যন্ত্রকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে- সারা দেশে কমপক্ষে ৯ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ মশাবাহিত রোগে অসুস্থ হয়েছে। সরকার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ধামাচাপা দিতে সরকারি যন্ত্রকে ব্যবহার করছে যথেচ্ছভাবে।
তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীর ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগী ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে। হাসপাতাল থেকে অনেক রোগীকে ফেরত দেয়া হচ্ছে।
রিজভী বলেন, এডিস মশাবাহিত এ রোগে এ পর্যন্ত অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা হবে আরও বেশি। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে এই ডেঙ্গু জ্বরে মাত্র ৮ জন রোগী মারা গেছে। এই ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কে দিনযাপন করছেন নগরবাসী।
রিজভী বলেন, নিধনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এর গবেষণায় যে ওষুধ অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলো দিয়েই চলছে ঢাকার দুই সিটির মশক নিধন কার্যক্রম। চরম ব্যর্থ মন্ত্রী-মেয়ররা হবু চন্দ্র রাজার গবুচন্দ্রের মতো প্রলাপ বকছেন।
তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, 'তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, গলাকাটার গুজবে জড়িত সন্দেহে যাদেরকে আটক করা হয়েছে তার ৭০ ভাগ লোক বিএনপি’র নেতাকর্মী। পুলিশ বলছে এই গুজবটি দুবাই থেকে ছড়ানো হচ্ছে, তারা বেশ কিছু ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দিয়েছে। তাহলে বিএনপি নেতাকর্মীরা কিভাবে জড়িত হলো।
সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।