সাঁতার কাটতে নেমে মগজ-খেকো অ্যামিবার শিকার!

প্রাণীটি এককোষী, খালি চোখে দেখাও যায় না। কিন্তু যদি নাক দিয়ে কোনও ভাবে শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে মগজের স্নায়ুকোষ ছিন্নভিন্ন করে অবধারিত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমেরিকার উত্তর ক্যারোলিনার ফ্যান্টাসি লেকে সাঁতার কাটতে গিয়ে এমনই একদল অ্যামিবার আক্রমণের মুখে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এডি গ্রে।

উত্তর ক্যারোলিনার স্বাস্থ্য দফতর জানায়, ৫৯ বছরের এডি কামবারল্যান্ড কাউন্টির ফ্যান্টাসি লেকে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সাঁতার কেটে ওঠার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রচণ্ড জ্বর ও গায়ে ব্যাথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রক্ত পরীক্ষায় এককোষী অ্যামিবার খোঁজ মেলে। ততক্ষণে অ্যামিবার কোষ বিভাজিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেহে। মস্তিষ্কের কোষ ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে ।

এদেরকে বলা হয় নাইগ্লেরিয়া ফোলেরি (Naegleria fowleri) বা মগজ-খেকো অ্যামিবা। নদী, পুকুর, হ্রদ থেকে সুইমিং পুল, যে কোনরকম জলাধারেই এদের অবাধ বাস। উষ্ণ পানি হলে তো কথাই নেই। দ্রুত কোষ বিভাজন করে এই অ্যামিবারা। সে জন্য বট ওয়াটার লেক বা উষ্ণ প্রস্রবণগুলিতে এদের দেখা মেলে অনেক বেশি। শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়, দূষিত পানিতেও দেখা মেলে এদের। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করা সুইমিং পুল বা ক্লোরিনেটেড নয় এমন বদ্ধ পানিতে দ্রুত ছড়ায় এই অ্যামিবারা।

এককোষী হলেও এদের প্রভাব মারাত্মক। মানুষের স্নায়ুকোষকে নিমেষে জখম করতে পারে এই অ্যামিবারা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনও ভাবে পানির মাধ্যমে এই প্রাণীকে গিলে ফেললে ততটা ক্ষতি হয়না। তবে কোনও ভাবে নাক দিয়ে যদি সে শরীরে এন্ট্রি পায় তাহলেই এরা ভয়ঙ্কর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশির খিঁচুনি দিয়ে উপসর্গ শুরু হয়। দ্রুত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ড্রাগ না দিলে মস্তিষ্কের কোষ ছিঁড়েখুঁড়ে দেয় এই প্রাণীরা। একে বলে নাইগ্লেরিয়াসিস বা প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফেলাইটিস (PAM)।

১৯৬০ সালে অস্ট্রেলিয়ার একটি হ্রদে প্রথম এই মগজ-খেকো অ্যামিবাদের সন্ধান মিলেছিল। মার্কিন মুলুকে এই অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক। উত্তর ক্যারোলিনার স্বাস্থ্য দফতরের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৯৬২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই এককোষী প্রাণীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪৫ জন। যার মধ্যে চার জনের অবস্থা ছিল ভয়ঙ্কর।

উত্তর ক্যারোলিনার এপিডেমোলজিস্ট জ্যাক মোরে জানিয়েছেন, এই ধরনের লেকে শুধু প্রাপ্তবয়স্করা নয়, শিশুরাও সাঁতার কাটে। কাজেই সচেতনতা বাড়ানোটা অনেক বেশি প্রয়োজন।