ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ ব ম ফারুক বলেছেন, তিনি যা করেছেন, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই করেছেন।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘খাদ্যে বিষমুক্তকরণ কার্যক্রমে নিয়োজিতদের নিরাপত্তায় সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক এই পরিচালক বলেন, দুধ নিয়ে তার গবেষণার বিষয়ে অনেকেই অনেক কিছু বলার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছে যে আমি বিএনপি করি। দেখেন, এদেশে আমার জন্ম হয়েছে। এদেশের প্রতি আমার একটা দায় আছে, মানুষের জন্য আমার কিছু করার আছে। আমি যা করছি তা একান্তই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এবং আমি মনে করি বর্তমান সরকার এ বিষয়টি বুঝেছেন বুঝবেন। আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কথা থেকে। তিনি বলেছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে উনি কাজ করবেন এবং তিনি বলেছেন খাদ্যে ভেজাল একটি দুর্নীতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের এই অধ্যাপক গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোতে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানানোর পর শুরু হয় আলোচনা।
তাদের ওই গবেষণার সঙ্গে বিভাগের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান।
পরে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর তাদের ওই গবেষণা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। সরকারি কর্মকর্তাদের পাশে রেখে সংবাদ সম্মেলনে দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, এই গবেষণা দেশের দুগ্ধ শিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক।
এই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও বাজার থেকে ১০টি নমুনা নিয়ে সবকটিতেই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান অধ্যাপক ফারুক।
শনিবারের আলোচনা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ফারুক বলেন, আমাদের দেশে যারা তরল দুধ বিক্রি করেন আমরা গবেষণা করে পেলাম যে তারা গুড়া দুধ কেনেন, কিন্তু কেন? আমরা গবেষণায় পেয়েছি দুধের মধ্যে আখের চিনি। দুধে তো থাকার কথা দুধের চিনি, যেটার নাম ল্যাকটোজ।
“কিন্তু দুধে আখের চিনি কোথা থেকে আসলো। এটা আমরা ঠিক মিলাতে পারলাম না। আমি আমার মেয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে দুধ কিনলাম, দুধের দাম অনেক বেশি। অথচ সেই দুধ পরিবহন খরচ দিয়ে, ট্যাক্স দিয়ে দেশে আসার পর আরও কমে কিনতে পাওয়া যায়। আমার কাছে সন্দেহ হয় ওই দুধ আর এইটা কি একই?”
তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের বিশেষজ্ঞ ডক্টরদের হাতে শেষ অস্ত্র হিসেবে যে অ্যান্টিবায়োটিক ছিল, যেগুলো মানুষকে আইসিইউতে না গেলে দেওয়া হয় না, সেগুলো আমরা প্রতিনিয়ত গরুর দুধের মাধ্যমে খাচ্ছি এবং আমাদের শরীরে সেগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
“ফলে যখন আমাদের এই অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করার প্রয়োজন হবে, তখন এই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না। আমরা একটা চার মাসের শিশু পেয়েছি, যার ওপরে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছিল না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সামনে মহাবিপর্যয় অপেক্ষা করছে।”