ডেঙ্গু নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

এডিস মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বিষয়ে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের আগেই সতর্ক করেছিল বলে জানালো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সোমবার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝরা বলেন, প্রাণঘাতি এ রোগ যে ঢাকার বাইরেও ছড়াতে পারে, সেই আশঙ্কার কথাও তারা আগেই জানিয়েছিলেন। 

তিনি বলেন, ডাক্তারদের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সতর্ক করা হচ্ছিল যাতে তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিতে পারে।

ডা. সানিয়া তাহমিনা জানান, মার্চ মাসে তারা ঢাকায় এডিস মশার বিষয়ে জরিপ চালান। তখনই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখা হয়েছিল। আশঙ্কা থেকেই আমরা ডেঙ্গু গাইডলাইন আপডেট করেছি। ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলাশহরে ডেঙ্গু টেস্ট কিট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৮২৪ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে রোববার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮ হাজার ৭২৫ জন।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে এলেও সরকারি হিসাবে এখনও মৃতের সংখ্যা আটজন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডেঙ্গু পরীক্ষায় বেঁধে দেওয়া ফি ঠিকমত আদায় হচ্ছে কিনা- সে বিষয়ে নজরদারি করতে অধিদপ্তরের ১০টি দল সোমবার থেকে মাঠে নেমেছে।

পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ এবং বিষয়টি তদারকি করার জন্য একজন ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশের প্রবেশমুখগুলোতে, বিশেষ করে বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার মেডিকেল কলেজগুলোর তত্ত্বাবধায়নে ঢাকার প্রতিটি জোনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালাবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।