প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সভাপতি খসরু, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম

দীর্ঘ ৭ বছর পর গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশ সমিতির নির্বাচন। এ দিন নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ হয়। কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০১৯-২১ মেয়াদে নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৪০ জন। ১৪০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট প্রদান করেন ১৩০ জন। এর  মধ্যে সহযোগী সদস্য হিসেবে ২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আজিজ আহমেদ পাপ্পু এবং ১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আসিকুর রহমান নাদিম। বিজয়ী ১৯জন নির্বাহী সদস্য হলেন খোরশেদ আলম খসরু,  সামসুল আলম, ইস্পাহানি আরিফ জাহান, কামাল মো. কিবরিয়া লিপু, মেহেদী সিদ্দিকী মনির, হিমেল, রশিদুল আমীন হলি, জাহিদ হোসেন, এ জে রানা, মোহাম্মদ হোসেন, ইয়ামীন হক ববি, কামাল হাসান, অপূর্ব রায়, নাদির খান, শহিদুল আলম সাচ্চু, ইলা জাহান নদী, ইকবাল, ড্যানি সিডাক, আলিমুল্লাহ খোকন।

এই ১৯ জনের মধ্যে ১০জনকে আবার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করে এবারের মূল কমিটি গঠন করা হয়। ২৯ জুলাই দুপুর ১টায় জহির রায়হান ভিআইপি প্রোজেকশন হলে দ্বিতীয় ধাপের ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু এবং সাধারণ সম্পাদক শাসমুল আলম। আর উর্ধ্বতন সহসভাপতি পদে কামাল মো: কিবরিয়া লিপু, সহ-সভাপতি পদে মো. শহীদুল আলম (সাচ্চু), সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইকবাল ও  মো. আলিমুল্লাহ খোকন, কোষাধ্যক্ষ পদে মেহেদী হাসান সিদ্দিকী মনির, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মোর্শেদ খান হিমেল এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ইলা জাহান নদী বিজয়ী হয়েছেন। অন্য সদস্য হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মো.খাদেমুল ইসলাম।

ঢাকাই সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনটি দীর্ঘ সাত বছর ধরে নানা জটিলতায় সময় কাটিয়েছে। ছিল না কোনো কার্যক্রম বা কমিটি। সিনেমা প্রযোজনা থেকেও দূরে রয়েছেন বেশির ভাগ প্রযোজক। এদিকে দীর্ঘ সাত বছর পর প্রযোজকদের এই নির্বাচনকে ঘিরে অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছেন। স্থবিরতা কাটার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।

গত ১৭ জুন থেকে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়, শেষ হয় ২০ জুন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৭ জুন। এরপর ঘোষণা করা হয় প্রার্থীদের তালিকা। কোনো রকম প্যানেল ছাড়াই নির্বাচনে অংশ  নেন প্রার্থীরা।

এর আগে ২০১৬ সালে প্রযোজক সমিতির নির্বাচনের উদ্যোগ  নেওয়া হলেও প্রযোজক নাসির হোসেনের করা রিটের কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। সে সময় পরপর তিনবার কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না- এফবিসিসিআইর অধীন সংগঠনের এমন নির্বাচনী রীতির খেলাপ করা হয়েছে মর্মে নাসির হোসেন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেছিল। কিন্তু তারপরও নানা ঝামেলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগোয়নি। অবশেষে সকল জটিলতা কাটিয়ে আজ (২৭ জুলাই) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।