‘মশক নিধনে দুই কোম্পানির কাছে জিম্মি ১৭ কোটি মানুষ’

মশা নিধনের ওষুধ আমদানি করা দুই কোম্পানির কাছে দেশের ১৭ কোটি মানুষ জিম্মি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমরা ওষুধ আমদানির সিন্ডিকেট ভেঙে এখন থেকে নিজেরাই সরাসরি ওষুধ আমদানি করব। আমদানি করা ওষুধ দিয়ে কীভাবে কাজ করব সে বিষয়ে আইডিসিআর ও আইসিডিডিআর এবং সরকারসহ বিভিন্ন এজেন্সি কাজ করবে।’

সোমবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ডিএনসিসি আয়োজিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের সাহায্য ও সহযোগিতাও চান মেয়র।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কর্তৃপক্ষ ওষুধ আমদানি করত লিমিট অ্যাগ্রো ও নোকন লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান।

মতবিনিময় সভায় মেয়র বলেন, ‘ওই দুই কোম্পানির জন্য মশার ওষুধের আমদানিকারক অন্য ওষুধ আমদানি করতে পারে না। তারা ওই সিস্টেমটাকে ম্যানেজ করে রেখেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরাই ওষুধ নিয়ে আসব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সমন্বয় করে অবশ্যই করতে হবে। এখন ৩৬৫ দিন কাজের কোন বিকল্প নেই। মশক নিধনের আলাদা গবেষণা ও তথ্য সেল তৈরি করতে হবে। আমাদের কথা বলার সময় বিনয়ী হতে হবে। মশক কর্মীদের জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন,‘ সিটি করপোরেশনকে রক্ষণাত্মক না হয়ে ক্ষমা চাওয়ার অবস্থান নিতে হবে। আপনাদের কোথাও ত্রুটি থাকলে দুর্বলতা থাকলে স্বীকার করে নিতে হবে। সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ বিষয়ে গবেষণা সেল থাকা দরকার। স্থায়ী তথ্য সেল থাকা দরকার। নগরবাসীকে বোঝাতে হবে যে সিটি করপোরেশন তাদের পাশে আছে।’

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘প্রয়োজনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তিনটি ভাগে ভাগ করে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। যারা প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, পরবর্তী ধাপে যাদের চিকিৎসা চলছে এবং তৃতীয় ধাপে যারা গুরুতর ভাবে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে।’

সারাবাংলা ডট নেট এর সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন,‘দায় এড়ানো এবং অস্বীকার করার প্রবণতা আমাদের এখানেই বেশি দেখা যায়। নাগরিকদের সেবা প্রদানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যত্যয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কোন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোন কাজ হতে দেখি না আমরা। ঢাকা শহরে বিশাল কনস্ট্রাকশন কর্মযজ্ঞ চলছে। এগুলোতে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে। বিভিন্ন থানার সামনে অনেক পরিত্যক্ত যানবাহন পরে থাকে। সেগুলোতে মশার প্রজনন হয়। আমাদের সেদিকেও নজর দিতে হবে।’

অন্যদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব সাবধানতা হিসেবে স্কুল বন্ধ রাখার প্রস্তাব জানিয়ে বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর এর সম্পাদক জুয়েল মাজহার বলেন, ‘স্কুলে ক্লাস করতে আসা কোমলমতি শিশুরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা যেতে পারে। এসব স্কুল এবং সিটি করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে হত দরিদ্র মানুষদের ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় যেন ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। এর জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে পারেন। ’

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেইলি সান এর সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, এবি নিউজ টোয়েন্টিফোর এর সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান বার্তা সম্পাদক আনিসুর রহমান প্রমুখ।