মানবপাচার রোধে জাতীয় অভিবাসন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা

সম্প্রতি জাতিসংঘের সংস্থাগুলো অভিবাসন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নীতিমালা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারকে সমন্বিত জাতিসংঘের কান্ট্রি টিম-ওয়াইড সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় অভিবাসন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। নেটওয়ার্কের আওতায়, অবৈধ মানব পাচারের বিষয়ে আন্তঃসম্পর্কীয় সমন্বয়কে সমর্থন করার জন্য জাতিসংঘ অধীন সংস্থাসমূহ এবং সিএসও-র সমন্বয়ে একটি কাউন্টার-ট্র্যাফিকিং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপও চালু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস ২০১৯ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় অনুষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই জাতীয় অভিবাসন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংসদ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতায় ‘আই স্ট্যান্ড অ্যাগেইনস্ট হিউম্যান ট্রাফিকিং’ শিরোনামে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইওএম এর “মাইগ্র্যান্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্স” এর প্রধান আসমা খাতুন মানব পাচার সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বায়নের কল্যাণে এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ এখন এক দেশে থেকে অন্য দেশে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১২ মিলিয়ন বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত আছেন। মূলত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত কারণে বাংলাদেশিরা বিপুল সংখ্যায় বিদেশে পাড়ি জমান।

২০১৮ সালে আনুমানিক ৮.৯ মিলিয়ন বাংলাদেশি অভ্যন্তরীণভাবে অভিবাসী হয়েছেন।  এই সময়ে প্রায় ৭৩০,০০০ জন নিয়মিত চ্যানেলগুলির মাধ্যমে বিদেশে কাজ করার জন্য পাড়ি জমান। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এর ট্রাফিকিং ইন পারসন্স (টিআইপি) রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী, প্রতি বছর অনেকেই অনিয়মিত চ্যানেলগুলির মাধ্যমে পাচার হন এবং পাচারকারীদের হাতে শোষণ এবং নির্যাতনের শিকার হন এই মানুষগুলো। যারা অবৈধভাবে বা অনিয়মিতভাবে বিদেশে যান বা যেতে বাধ্য হন তারা সীমাবদ্ধ চলাচল, ঋণচুক্তি, জোরপূর্বক শ্রম, যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক বিবাহ এবং দাসত্বের মতো সমস্যায় পরেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, “আমাদের দেশে পর্যাপ্ত চাকরির সুবিধা নেই। এ কারণে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা, বিদেশে যান। এদের অনেকেই পাচারের শিকার হন। যারা এই পাচারের শিকার হন তাদের অধিকাংশই গরিব। ফলে চাইলেই তারা অনেক কিছু করতে পারেন না। বাস্তবতা হলো, পাচারের বিষয়টি এখন উদ্বেগজনক। এটি ঠেকাতে  আমাদের দারিদ্র্য কমাতে হবে। বৃদ্ধি করতে হবে তরুণদের দক্ষতা। একই সঙ্গে যারা বিদেশে যেতে আগ্রহী তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হব।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইওএম এর ডেপুটি চিফ অফ মিশন- শ্যারন ডিমাঞ্চ বলেন - “দেশে বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বিদ্যমান থাকায় একজন ব্যক্তি বিদেশে যেতে চায়। এই সুযোগে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নতির লোভ দেখিয়ে পাচারকারীরা মিথ্যা স্বপ্নে আকৃষ্ট করে সাধারণ মানুষ পাচার করে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য সব পক্ষের একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ টি ডিবেটিং ক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।